পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রূপশিল্প [ 56 আমার সঙ্গে নন্দের নন্দন ! কিন্তু করি কী, সে যে আমার মাথার বিড়ে নিয়ে গেল, আমি জল ভরতে যাই কী করে – কথা আর মুরের ফঁাকে ফঁাকে এই খবরটা ধরা পড়ল যে বিড়ের শোকটা ছলনা। গোপিনীর কর্তব্যের বিড়ে গেছে হারিয়ে, সে সাধ করেই ধরা পড়েছে মথুরা আর বৃন্দাবনের মাঝখানটাতে। এ তো খাটি সাহিত্য, আর এর সহচরী পূরবী তো খাটি সংগীত– দুইয়ের একান্নত তো মনে নিবিড় করে বাজছে। শাস্ত্র মেনে কি এদের জোড় ভেঙে দিতে হবে ? পার্সিফাল অপেরার বুকে গানের ওস্তাদ যদি সার্জারির ছুরি চালাতে আসেন তা হলে সবাই মিলে দেবে তাকে পাগলা-গারদে চালান করে। নিরর্থক শব্দ আশ্রয় করে সংগীত তেলেন। সারগম স্মৃষ্টি করেছে। গীতকলায় তাদের স্থান উচ্চশ্রেণীর নয়। তানসেন প্রভৃতি গুণীদের রচনা সাহিত্যভাষা অবলম্বনেই আজ পর্যন্ত টিকে আছে। সে ভাষা সাহিত্যের কোঠায় সব সময়ে উচ্চাসনের অধিকারী হয় না। তবু তাদের অভাবে রসের কিছু অভাব যদি না ঘটত তা হলে সংগীতে দেখা দিত তেলেনা-বগেরই আধিপত্য । বস্তুত অকিঞ্চিৎকর হলেও গানে সাহিত্য গৌণ নয়। স্বর্যের আলো মেঘের স্তর পেলে বাষ্পপুঞ্জে আপন রঙ ফলিয়ে দেয় । অতি সামান্ত বাক্যকেও রঙিয়ে তোলবার সুযোগ পায় গান। ‘গুরুজি কালে কম্বল আমাকে কিনে দাও। —মুখের কথায় এটা তুচ্ছ। কিন্তু পরজ রাগে এটাকে টেনে তোলে বৈরাগ্যের ব্যাকুলতায়। কিন্তু এর জো নেই তোমৃত্যনানায়। স্বৰ্যকিরণ যে তুচ্ছ মেঘের বাষ্পকেই মহিমা দেয় তা নয়, তাজমহলকেও করে তোলে অপরূপ । এই তো গেল এক দিকের কথা, এখন ছবির দিকে তাকাও ৷ বিষয়বস্তুহীন ছবির নিছক বিশুদ্ধ রূপ আমার ভালোই লাগে, যেমন ভালো লাগে বাক্যহারা সংগীতের আলাপ । বস্তুত আমার নিজের