পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কবির কৈফিয়ত ९१ মরিতে যে চাও না । কেন চাই না । চাও না বলিযাই চাও না । এই জবাবটাকে এক কথাষ বলিতে গেলে বলিতে হয লীলা । জীবনের মধ্যে র্বাচিবার একটা অহেতুক ইচ্ছা আছে। সেই ইচ্ছাটাই চরম কথা । সেইটে আছে বলিযাই আমরা লড়াই করি, দুঃখকে মানিযা লই। সমস্ত জোরজবর্দস্তির সবশেষে একটা খুশি আছে— তার ও দিকে আর যাইবার জো নাই, দরকারও নাই। শতরঞ্জ খেলার আগাগোডাই খেলা, মাঝখানে দাবাব’ডে-চালাচালি এবং মহাভাবনা । সেই দুঃখ না থাকিলে খেলার কোনো অর্থই থাকে না। অপর পক্ষে, খেলার আনন্দ না থাকিলে দুঃখের মতো এমন নিদারুণ নিরর্থকতা আর-কিছু নাই। এমন স্থলে শতরঞ্জকে আমি যদি বলি খেলা আর তুমি যদি বল দাবাব’ড়ের লড়াই তবে তুমি আমার চেযে কম বৈ যে বেশি বলিলে এমন কথা আমি মানিব না । কিন্তু এ-সব কথা বলা কেন । জীবনটা কিম্বা জগৎটা যে লীলা, এ কথা শুনিতে পাইলেই যে মানুষ একদম কাজকর্মে ঢিল দিয বসিবে। এই কথাটা শোনা না-শোনার উপরই যদি মানুষের কাজ করা নাকরা নির্ভর করিত তবে যিনি বিশ্ব স্বষ্টি করিযাছেন গোডায র্তারই মুখ বন্ধ করিষা দিতে হয । সামান্ত কবির উপরে রাগ করাষ বাহাদুরি নাই। কেন, স্মৃষ্টিকর্তা বলেন কী । তিনি আর যাই বলুন, লড়াইযের কথাটা যত পারেন চাপ দেন। মানুষের বিজ্ঞান বলিতেছে, জগৎ জুড়িয অণুতে পরমাণুতে লড়াই। কিন্তু আমরা যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে তাকাইযা দেখি, সেই যুদ্ধব্যাপার ফুল হইযা ফোটে, তারা হইযা জলে, নদী হইযা চলে, মেঘ হইযা ওড়ে।