পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৬০ সাহিত্যের পথে কথাটা বলতে হবে । নইলে কোনো ছোটো নিম্পত্তিতে চলবে না । নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে হবে কলাকারু সম্বন্ধে মানুষের এত বিচিত্র প্রযাসের তাৎপর্যটা কোথায আছে। যুগযুগান্তর থেকে মানব এই যেসকল রূপরচনায প্রবৃত্ত হযে আছে, যে রচনা চিরকাল ধ’রে সকলের বহুপুরস্কত, মানবের সেই চেষ্টার মূল উৎস কোথায । তা যদি ঠিকমত নির্ণয করতে পারি তা হলেই বুঝতে পারব, আর্টের সঙ্গে মানবজীবনের সম্বন্ধ কী এবং মানুষের প্রাণধারণের চেষ্টার পক্ষে তার উপযোগিতা কতটুকু। এই মূল অনুসরণ করতে গেলে মধ্যপথে থামবার জো নেই, একেবারে তত্ত্বজ্ঞানের কোঠায গিযে পৌছতে হয এবং সেই তত্ত্বজ্ঞানের আশ্ৰয অসীমের রাজ্যে । সত্যের সন্ধানে অসীমের পথে অভিযান আমাদের ভারতীয প্রকৃতি -গত। হযতো কোনো ইংরেজ শ্রোতৃমণ্ডলীর সমক্ষে আর্ট সম্বন্ধে আলোচনাকে এত সুদূরে নিযে গিযে দাড করাতে আমার সংকোচ হত । যদি বা সাহস কবে এ কাজে প্রবৃত্ত হতেম তা হলে গোড়াতেই ‘ওরিএন্ট্যাল মিস্টসিজম -নামধারী এক স্বরচিত কুহেলিকার অন্তরাল থেকে হযতো আমার কথাগুলিকে তারা কিঞ্চিৎ অশ্রদ্ধামিশ্রিত কৌতুহলের সঙ্গে অস্পষ্ট করে শুনতেন। কিন্তু, বর্তমান ক্ষেত্রে আমার ভরসার কারণ এই যে, আমাদের পিতামহেরা আমাদের সমস্ত সম্বন্ধকেই একটি চিরন্তন সত্যের সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত করে দেখতে চেষ্টা করেছেন । এই অনুশীলনায তাদের সাহসের অন্ত ছিল না। যে-কোনো অভিব্যক্তি কলায সংগীতে সাহিত্যে উদঘাটিত হযেছে তাকে অনন্ততত্ত্বের পটভূমিকার উপর রেখে দেখতে পারলেই সত্যকে পাওযা যায— এই কথাটি গ্রহণ করা আমাদের পক্ষে কঠিন নয। মানবীয সত্যকে তিন ভাগে ভাগ করে দেখা যেতে পারে। সেই