পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্রন্থপরিচয ఇUసె থাকৃ, সবসুদ্ধ মিলে ঐ রচনা একটি পরিপূর্ণ নাটক হযে উঠেছে। প্রতিভার কোন মন্ত্রবলে তা হল তা কেউ বলতে পারে না । স্বষ্টি আপনাকে আপনিই প্রমাণ করে, উপাদানবিশ্লেষণ-দ্বারা নয়, নিজের সমগ্র সম্পূর্ণ রূপটি প্রকাশ করে। রজোগুণের চেয়ে সত্ত্বগুণ ভালো, এ নিয়ে মুক্তিতত্ত্ব-ব্যাখ্যায় তর্ক চলতে পারে ; কিন্তু সাহিত্যে সাহিত্যিক ভালো ছাড়া অন্ত কোনো ভালো নেই । কাটাগাছে গোলাপ ফোটে, এটাতে বোধ করি রজোগুণের প্রমাণ হয়। গোলাপ গাছের প্রকৃতিটা অস্ত্রধারী, জগতে শক্র আছে এ কথা সে ভুলতে পারে না। এই সন্দেহচঞ্চল ভাবটা সাত্ত্বিক শাস্তির বিরোধী, তবুও গোলাপকে ফুল হিসাবে নিন্দ করা যায় না ; নিষ্কণ্টক অতিশুভ্র ব্যাঙের ছাতার চেয়ে সে যে রমণীয়তায় হেয় এ কথা তত্ত্বজ্ঞানী ছাড়া আর কেউ বলবে না। ভূঁইচাপা ওঠে মাটি ফুড়ে, থাকে মাটির কাছে, কিন্তু ফুলের সমজদার এই রজো বা তমোগুণের লক্ষণটা স্মরণ করিয়ে তাকে সাংখ্যতত্ত্বের শ্রেণীভুক্ত করবার চেষ্টা করে না। আমার কাব্য সম্বন্ধে উপরিলিখিত বিশেষ তর্কট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য নয়। কিন্তু, আমাদের সাহিত্য-সমালোচনায় যে দোষটা সর্বদ দেখতে পাওয়া যায় এটা তারই একটা নিদর্শন। আমরা সহজেই ভুলি ইত্যাদি — প্রবাসী, ১৩৩৬ কাতিক, পৃ ১৩৩ ‘আধুনিক কাব্য’ প্রবন্ধে যথার্থ ‘আধুনিকতা’ কোথায ও কেমন রবীন্দ্রনাথ তাহ এক দিকে সমকালীন, অন্ত দিকে বহু প্রাচীন, বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন কবিতার দৃষ্টান্ত দিয়া বুঝাইয়াছেন। ইংরেজি ভাষায় লিখিত বা অনুদিত সেই-সব আদর্শ কবিতাবলীর অধিকাংশই নিম্নলিখিত দুইখানি কাব্যসংকলনে পাওয়া যাইবে—