পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


& 4- সাহিত্যের পথে সমস্তটার দিকে সমগ্রভাবে যখন দেখি তখন দেখি, ভূমার ক্ষেত্রে মুরের সঙ্গে সুরের মিল, রেখার সঙ্গে রেখার যোগ, রঙের সঙ্গে রঙের মালা বদল । বিজ্ঞান সেই সমগ্র হইতে বিচ্ছিন্ন করিযী দলাদলি ঠেলাঠেলি হানাহানি দেখিতে পায। সেই অবচ্ছিন্ন সত্য বিজ্ঞানের সত্য হইতে পারে কিন্তু তাহী কবির সত্যও নহে, কবিগুরুর সত্যও নহে। অন্ত কবির কথা রাখিযা দাও, তুমি নিজের হইযা বলে । আচ্ছা ভালো । তোমাদের নালিশ এই যে, খেলা ছুটি আনন্দ এই-সব কথা আমার কাব্যে বারবার আসিযা পড়িতেছে। কথাটা যদি ঠিক হয তবে বুঝিতে হইবে, একটা-কোনো সত্যে আমাকে পাইযাছে। তার হাত আমার আর এড়াইবার জো নাই । অতএব এখন হইতে আমি বিধাতার মতোই বেহাযা হইযা এক কথা হাজার বার বলিব। যদি আমাকে বানাইযা বলিতে হইত তবে ফি বারে নূতন কথা না বলিলে লজ্জা হইত। কিন্তু সত্যের লজ্জা নাই, ভয নাই, ভাবনা নাই। সে নিজেকেই প্রকাশ করে ; নিজেকেই প্রকাশ করা ছাড তার আর গতি নাই, এইজন্যই সে বেপরোযা। এটা যেন তোমার অহংকাবের মতো শোনাইতেছে। সত্যের দোহাই দিয নিন্দ করিলে যদি দোষ না হয তবে সত্যের দোহাই দিয অহংকার করিলেও দোষ নাই । অতএব এখানে তোমাতেআমাতে শোধবোধ হইল । বাজে কথা আসিল । যে কথা লইযা তর্ক হইতেছিল সেটা— সেটা এই যে, জগতে শক্তির লড়াইটাকেই প্রধান করিষা দেখা অবচ্ছিন্ন দেখা— অর্থাৎ, গানকে বাদ দিযা সুরের কসরৎকে দেখা । আনন্দকে দেখাই সম্পূর্ণকে দেখা। এ কথা আমাদেরই দেশের সবচেযে বড়ো কথা । উপনিষদের চরম কথাটি এই যে, আনন্দাদ্ধ্যেব খদ্বিমানি ভূতানি জাযন্তে, আনন্দেন জাতানি জীবস্তি, আনন্দং