পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কবির কৈফিয়ত २६) সম্প্রযন্ত্যভিসংবিশস্তি। আনন্দ হতেই সমস্ত উৎপন্ন হয, সমস্ত বঁাচে, আনন্দের দিকেই সমস্ত চলে। এই যদি উপনিষদের চরম কথা হয তবে কি ঋষি বলিতে চান জগতে পাপ নাই, দুঃখ নাই, রেষারেষি নাই। আমরা তো ঐগুলোর উপরেই বেশি করিযী জোর দিতে চাই, নহিলে মানুষের চেতনা হইবে কেমন করিযা । উপনিষৎ ইহার উত্তর দিযাছেন— কোহেবান্তাৎ ক: প্রাণ্যাৎ যদেষ আকাশ আনন্দো ন স্যাৎ । কেই-বা শরীরের চেষ্টা, প্রাণের চেষ্টা করিত (অর্থাৎ কেই-বা দুঃখধন্দা লেশমাত্র স্বীকার করিত ) আনন্দ যদি আকাশ ভরিযা না থাকিত। অর্থাৎ আনন্দই শেষ কথা বলিযাই জগৎ দুঃখদ্বন্দ্ব সহিতে পারে। শুধু তাই নয, দুঃখের পরিমাপেই আনন্দের পরিমাপ। আমরা প্রেমকে ততখানিই সত্য জানি যতখানি সে দুঃখ বহন করে। অতএব দুঃখ তো আছেই, কিন্তু তাহার উপরে আনন্দ আছে বলিযাই সে আছে। নহিলে কিছুই থাকিত না, হানাহানি মারামারিও না । তোমরা যখন দুঃখকেই স্বীকার কর তখন আনন্দকে বাদ দাও, কিন্তু আনন্দকে স্বীকার করিলে দুঃখকে বাদ দেওযা হয না । অতএব তোমরা যখন বল হানাহানি করিতে করিতে যাহা টিকিল তাহাই স্মৃষ্টি, সেটা একটা অবচ্ছিন্ন কথা, ইংরেজিতে যাকে বলে অ্যাবৃস্ট্র্যাকৃশন ; আর আনন্দ হইতেই সমস্ত হইতেছে ও টিকিতেছে, এইটেই হইল পুরা সত্য। আচ্ছা, তোমার কথাই মানিযা লইলাম, কিন্তু এটা তো একটা তত্ত্বজ্ঞানের কথা । সংসারের কাজে ইহার দাম কী। সে জবাবদিহি কবির নয, এমন-কি, বৈজ্ঞানিকেরও নয। কিন্তু যেরকম দিনকাল পড়িযাছে কবিদের মতো সংসারের নেহাত অনাবশু্যক লোকেরও হিসাবনিকাশের দায এড়াইযা চলিবার জো নাই। আমাদের দেশের অলংকারশাস্ত্রে রসকে চিরদিন অহেতুক অনির্বচনীয বলিয