পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের পথে איס\ দৃষিযা উঠিল। কিন্তু তাহারা নিজের স্বার্থ ভুলিযা আমার দেশের যে কত অবিশ্রাম উপকার করিতেছে তাহার লম্বা ফর্দ আমার কাছে দাখিল করিত। তাহাদেব ফর্দটি জাল ফর্দ নয, অঙ্কেও ভুল নাই । তাহাবা সত্যই আমাদের উপকার করে কিন্তু সেটার মতো নিষ্ঠুর অন্তাষ আমাদের প্রতি আব কিছুষ্ট হইতে পারে না। তাব চেযে আমাদের পাড়ায গুর্খাফৌজ লাগাইযা দেওযাই ভালো। আমি এই কথা বলি, কর্তব্যনীতি যেখানে কর্তব্যের মধ্যেই বদ্ধ, অর্থাৎ যেখানে তাহা অ্যাবৃস্ট্র্যাকৃশন, সেখানে সজীব প্রাণীর প্রতি তাহার প্রযোগ অপরাধ। এইজন্যই আমাদের শাস্ত্রে বলে, শ্রদ্ধযা দেযং । কেননা দানের সঙ্গে শ্রদ্ধা বা প্রেম মিলিলে তবেই তাহা সুন্দর ও সমগ্র হয । কিন্তু এমনি আমাদের অভ্যাস কদর্য হইযাছে যে আমরা নিলজের মতো বলিতে পারি যে, কর্তব্যের পক্ষে সরস না হইলেও চলে, এমনকি, না হইলে ভালো চলে। লড়াই, লড়াই, লড়াই ! বড়াই করিতে হইবে যে আনন্দকে অবজ্ঞা করি আমরা এমনি বাহাদুর! চন্দন মাখিতে লজ্জা, তাই রাই-সরিষার বেলেস্তারা মাখিযা আমরা দাপাদাপি করি। আমার লজ্জা ঐ বেলেস্তারাটাকে । আসলে, মানুষের গলদটা এইখানে যে, পনেরো আনা লোক ঠিক নিজেকে প্রকাশ করিতে পায না। অথচ নিজের পূর্ণ প্রকাশেই আনন্দ। গুণী যেখানে গুণী সেখানে তার কাজ যতই কঠিন হোক সেখানেই তার আনন্দ ; মা যেখানে মা সেখানে তার ঝঞ্জাট যত বেশিই হোক-না সেখানেই তার আনন্দ। কেননা পূর্বেই বলিযাছি, যথার্থ আনন্দই সমস্ত দুঃখকে শিবের বিষপানের মতো অনাযাসে আত্মসাৎ করিতে পারে। তাই কালাইল প্রতিভাকে উন্ট দিক দিয দেখিয বলিযাছেন, অসীম দুঃখ স্বীকার করিবার শক্তিকেই বলে প্রতিভা । কিন্তু মানুষ যে কাজ করে তার অধিকাংশই নিজেকে প্রকাশের