পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কবির কৈফিযত \C(\ی( জন্ত নয। সে, হ্য নিজের মনিবকে নষ কোনো প্রবল পক্ষকে, নয কোনো বাধা দস্তুরের কর্মপ্রণালীকে, পেটের দাযে বা পিঠের দাযে প্রকাশ করে। পনেরো আনা মানুষের কাজ অন্তের কাজ। জোর করিযা মানুষ নিজেকে আর-কেহ কিম্বা আর-কিছুর মতো করিতে বাধ্য। চীনের মেযের জুতা তার পাযের মতো নহে, তার পা তার জুতার মতো । কাজেই পা’কে দুঃখ পাইতে হয এবং কুৎসিত হইতে হয। কিন্তু এমনতর কুৎসিত হইবার মস্ত সুবিধা এই যে, সকলেরই সমান কুৎসিত হওয সহজ । বিধাতা সকলকে সমান করেন নাই, কিন্তু নীতিতত্ত্ববিৎ যদি সকলকেই সমান করিতে চাষ তবে তো লড়াই ছাড়া, কৃচ্ছসাধন ছাড়া, কুৎসিত হওয়া ছাড়া আর কথা নাই । সকল মানুষকেই রাজার, সমাজের, পরিবারের, মনিবের দাসত্ব করিতে হইতেছে। কেমন গোলমালে দাষে পড়িযা এইরকমট ঘাট্যাছে। এইজন্যই লীলা কথাটাকে আমরা চাপা দিতে চাই । আমরা বুক ফুলাইযা বলি, জিন-লাগাম পরিষা ছুটিতে ছুটিতে রাস্তাষ মুখ থুবড়াইযা মরাই মানুষের পরম গৌরব । এ-সমস্ত দাসের জাতির দাসত্বের বড়াই। এমনি করিযী দাসত্বের মন্ত্র আমাদের কানে আওড়ানো হয পাছে এক মুহূর্তের জন্য আমাদের আত্মা আত্মগৌরবে সচেতন হইয উঠে। না, আমরা স্তাকৃরা গাড়ির ঘোড়ার মতো লাগাম-বাধা মরিবার জন্য জন্মাই নাই । আমরা রাজার মতো বাচিব, রাজার মতো মরিব । আমাদের সবচেয়ে বড়ো প্রার্থনা এই যে, আবিরাবীর্ম এধি । হে আবি, তুমি আমার মধ্যে প্রকাশিত হও । তুমি পরিপূর্ণ, তুমি আনন্দ । তোমার রূপই আনন্দরূপ। সেই আনন্দরূপ গাছের চেলা কাঠ নহে, তাহা গাছ। তার মধ্যে হওয়া এবং করা একই। আমার কথার জবাবে এ কথা বলা চলে যে, আনন্দরূপ মানুষের মধ্যে একবার ভাঙচুরের মধ্যে দিযা তবে আবার আপনার অখণ্ড পরিপূর্ণত \O