পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


\98 সাহিত্যের পথে লাভ করিতে পারিবে। যতদিন তা না হয় ততদিন লড়াইয়ের মন্ত্র দিনরাত জপিতে হইবে। ততদিন লাগাম পরিয়া মুখ ধুবড়িা মন্বিত হইবে । ততদিন ইস্কুলে আপিসে আদালতে হাটে বাজারে কেবলই নরমেধ-যজ্ঞ চলিতে থাকিবে । সেই বলির পশুদের কানে বলিদানের ঢাক ঢোলই খুব উচ্চৈস্বরে বাজাইযা তাহাদের বুদ্ধিকে ঘুলাইযা দেওয ভালো— বলা ভালো, এই হাড়কাঠই পরম দেবতা, এই খড়গাঘাতই আশীৰ্বাদ, আর জল্লাদই আমাদের ত্রাণকর্তা । তা হোক, বলিদানের ঢাক ঢোল বাজুক আপিসে, বাজুক আদালতে —বাজুক বন্দীদের শিকলের ঝংকারের সঙ্গে তাল রাখিযা। মরুক সকলে গলদঘর্ম হইয, শুষ্কতালু লইযা, লাগাম কামডাইয রাস্তার ধূলার উপরে। কিন্তু কবির বীণায বরাবর বাজিবে আনন্দাদ্ধেব খদ্বিমানি ভূতানি জাযন্তে। কবির ছনে এই মন্ত্রের উচ্চারণ শেষ হইবে all Truth is beauty, beauty truth —#To Afon ATTFR5 কলেজ লাঠি-হাতে তাড়া করিযা আসিলেও সকল কোলাহলের উপরেও এই মুর বাজিবে— সমুদ্রের সঙ্গে, অরণ্যের সঙ্গে, আকাশের আলোকবীণার সঙ্গে সুর মিলাইযা বাজিবে— আনন্দং সম্প্রযন্ত্যভিসংবিশস্তি— যাহা-কিছু সমস্তই পরিপূর্ণ আনন্দের দিকেই চলিযাছে, খুঁকিতে ধুকিতে রাস্তার ধুলার উপরে মুখ থুব্রডাইযা মরিবার দিকে নহে। ১৩২২ জ্যৈষ্ঠ