পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


\O6. সাহিত্য উপনিষৎ ব্রহ্মস্বরূপের তিনটি ভাগ করেছেন– সত্যম্ জ্ঞানম্ এবং অনন্তম্। চিরন্তনের এই তিনটি স্বরূপকে আশ্ৰয করে মানব-আত্মারও নিশ্চয তিনটি রূপ আছে। তার একটি হল আমরা আছি, আর-একটি আমরা জানি ; আর-একটি কথা তার সঙ্গে আছে, তাই নিযেই আজকের সভায আমার আলোচনা । সেটি হচ্ছে, আমরা ব্যক্ত করি। ইংরেজিতে TFTS GIGI Gil T- I am, I know, I express | NfWITH এই তিন দিক এবং এই তিন নিযেই একটি অখণ্ড সত্য। সত্যের এই তিন ভাব আমাদের নানা কাজে ও প্রবর্তনায নিযত উদ্যত করে । টিকতে হবে তাই অন্ন চাই, বস্ত্র চাই, বাসস্থান চাই, স্বাস্থ্য চাই । এই নিযে তার নানারকমের সংগ্রহ রক্ষণ ও গঠনকার্য। “আমি আছি’ সত্যের এই ভাবটি তাকে নানা কাজ করাষ। এই সঙ্গে আছে ‘আমি জানি’ । এরও তাগিদ কম নয। মামুষের জানার আযোজন অতি বিপুল আর তা কেবলই বেডে চলেছে, তার মূল্য মানুষের কাছে খুব বডো। এইসঙ্গে মানবসত্যের আর-একটি দিক আছে ‘আমি প্রকাশ কবি” । “আমি আছি? এইটি হচ্ছে ব্রহ্মের সত্য-স্বরূপের অন্তর্গত, “আমি জানি’ এটি ব্রহ্মের জ্ঞান-স্বরূপের অন্তর্গত, ‘আমি প্রকাশ করি’ এটি ব্রহ্মের অনন্ত-স্বরূপের অন্তর্গত । ‘আমি আছি’ এই সত্যকে রক্ষা করাও যেমন মানুষের আত্মরক্ষা, তেমনি “আমি জানি’ এই সত্যকে রক্ষণ করাও মানুষের আত্মরক্ষা, কেননা মানুষের স্বরূপ হচ্ছে জ্ঞানস্বরূপ । অতএব মানুষ যে কেবলমাত্র জানবে কী দিযে, কী খাওযার দ্বারা আমাদের পুষ্টি হয, তা নয। তাকে নিজের জ্ঞানস্বরূপের গরজে রাত্রির পর রাত্রি জিজ্ঞাসা করতে হবে মঙ্গলগ্রহে যে চিহ্নজাল দেখা যায সেটা কী— জিজ্ঞাসা করতে গিযে