পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ᏔᏇᏬ সাহিত্যের পথে হ্যতো তাতে তার দৈনন্দিন জীবনযাত্রা অত্যন্ত পীড়িত হয। অতএব মানুষের জ্ঞান-বিজ্ঞানকে তার জ্ঞানময প্রকৃতির সঙ্গে সংগত করে জানাই ঠিক জানা, তার প্রাণম্য প্রকৃতির সঙ্গে একান্ত যুক্ত করে জানা ঠিক জানা নয। আমি আছি, আমাকে টিকে থাকতে হবে, এই কথাটি যখন ংকীর্ণ সীমায থাকে তখন আত্মরক্ষা বংশরক্ষা কেবল আমাদের অহংকে অঁাকড়ে থাকে। কিন্তু যে পরিমাণে মানুষ বলে যে, অন্তের টিকে থাকার মধ্যেই আমার টিকে থাকা সেই পরিমাণে সে নিজের জীবনের মধ্যে অনন্তের পরিচয দেয, সেই পরিমাণে ‘আমি আছি’ এবং ‘অন্ত-সকলে আছে? এই ব্যবধানটা তার ঘুচে যায। এই অন্তের সঙ্গে ঐক্যবোধের দ্বারা যে মাহাত্ম্য ঘটে সেইটেই হচ্ছে আত্মার ঐশ্বর্য, সেই মিলনের প্রেরণায মানুষ নিজেকে নানা প্রকারে প্রকাশ করতে থাকে। যেখানে একলা মানুষ সেখানে তার প্রকাশ নেই। টিকে থাকাব অসীমতা-বোধকে অর্থাৎ, “আপনার থাকা অন্তের থাকার মধ্যে এই অনুভূতিকে মানুষ নিজেরই ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র দৈনিক ব্যবহারের মধ্যে প্রচ্ছন্ন রাখতে পারে না। তখন সেই মহাজীবনের প্রযোজনসাধনের উদ্বেপ্তে নানাপ্রকার সেবায ত্যাগে সে প্রবৃত্ত হয, এবং সেই মহাজীবনের আনন্দকে আবেগকে সে নানা সাহিত্যে স্থাপত্যে মূর্তিতে চিত্রে গানে প্রকাশ করতে থাকে । পূর্বে বলেছি, কেবলমাত্র নিজে নিজে একান্ত টিকে থাকবার ব্যাপারেও জ্ঞানের প্রযোজন আছে। কিন্তু সে জ্ঞানের দীপ্তি নেই। জ্ঞানের রাজ্যে যেখানে অসীমের প্রেরণা সেখানে মানুষের শিক্ষার কত উদ্যোগ, কত পাঠশালা, কত বিশ্ববিদ্যালয, কত বীক্ষণ, কত পরীক্ষণ, কত আবিষ্কার, কত উদ্ভাবনা । সেখানে মানুষের জ্ঞান সর্বজনীন ও সৰ্বকালীন হযে মানবাত্মার সর্বত্র প্রবেশের অধিকারকে ঘোষণা করে।