পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্য Woo এই অধিকারের বিচিত্র আযোজন বিজ্ঞানে দর্শনে বিস্তৃত হতে থাকে, কিন্তু তার বিশুদ্ধ আনন্দরসটি নানা রচনায সাহিত্যে ও আর্টে প্রকাশু পায । তবেই একটা কথা দেখছি যে পশুদের মতো মানুষেরও যেমন নিজে টিকে থাকবার ইচ্ছা প্রবল, পশুদের মতো মানুষেরও যেমন প্রযোজনীয জ্ঞানের কৌতুহল সর্বদা সচেষ্ট, তেমনি মানুষের আর-একটি জিনিস আছে যা পশুদের নেই, সে ক্রমাগতই তাকে কেবলমাত্র প্রাণধারণের সীমার বাইরে নিযে যায়। এইখানেই আছে প্রকাশতত্ত্ব। প্রকাশটা একটা ঐশ্বর্যের কথা। যেখানে মানুষ দীন সেখানে তো প্রকাশ নেই, সেখানে সে যা আনে তাই খায। যাকে নিজেই সম্পূর্ণ শোষণ করে নিযে নিঃশেষ না করতে পারি তাই দিযেই তো প্রকাশ । লোহা গরম হতে হতে যতক্ষণ না দীপ্ত তাপ পর্যন্ত যায ততক্ষণ তার প্রকাশ নেই। আলো হচ্ছে তাপের ঐশ্বর্য । মানুষের যে-সকল ভাব স্বকীয প্রযোজনের মধ্যেই ভুক্ত হযে না যায, যার প্রাচুর্যকে আপনার মধ্যেই আপনি রাখতে পারে না, যা স্বভাবতই দীপ্যমান, তারই দ্বারা মানুষের প্রকাশের উৎসব। টাকার মধ্যে এই ঐশ্বর্য আছে কোল্‌খানে। যেখানে সে আমার একান্ত প্রযোজনকে উত্তীর্ণ হযে যায, যেখানে সে আমার পকেটের মধ্যে প্রচ্ছন্ন নয, যেখানে তার সমস্ত রশ্মিই আমার কৃষ্ণবর্ণ অহংটার দ্বারা সম্পূর্ণ শোষিত না হযে যাচ্ছে, সেইখানেই তার মধ্যে অশেষের আবির্ভাব এবং এই অশেষই নানা রূপে প্রকাশমান । সেই প্রকাশের প্রকৃতিই এই যে, আমরা সকলেই বলতে পারি— “এ যে আমার’ । সে যখন অশেষকে স্বীকার করে তখনই সে কোনো-একজন অমুক বিশেষ লোকের ভোগ্যতার মলিন সম্বন্ধ হতে মুক্ত হয। অশেষের-প্রসাদ-বঞ্চিত সেই বিশেষ ভোগ্য টাকার বর্বরতাষ বসুন্ধরা পীড়িত। দৈম্ভের ভারের মতো আর