পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্য \రి$ আমাদের সমস্ত মঙ্গল-অনুষ্ঠানে গ্রহণ করবার মন্ত্র হচ্ছে ওঁ— অর্থাৎ, ই ! তাজমহল হচ্ছে সেই নিত্য-উচ্চারিত ওঁ— নিখিলের সেই গ্রহণমন্ত্র মূর্তিমান। সাজাহানের সিংহাসনে সেই মন্ত্র পড়া হয নি— একদিন তার যতই শক্তি থাকৃ-না কেন— সে তো ‘না হযে কোথায তলিযে গেল । তেমনি কত কত বড়ো-বডো-নাম-ধারী ‘না’এর দল আজ দম্ভভরে বিলুপ্তির দিকে চলেছে, তাদের কামানগজিত ও বন্দীদেরশৃঙ্খল-ঝংকৃত কলরবে কান বধির হযে গেল, কিন্তু তারা মাযা, তারা নিজেরই মৃত্যুর নৈবেদ্য নিযে কালরাত্রি-পারাবারের কালীঘাটে সব যাত্রা করে চলেছে। কিন্তু ঐ সাজাহানের কন্যা জাহানারার একটি কান্নার গান ? তাকে নিযে আমরা বলেছি, ওঁ ! কিন্তু আমরা দান করতে চাইলেই কি দান করতে পারি। যদি বলি ‘তুভ্যমহং সম্প্রদদে’, তা হলেই কি বর এসে হাত পাতেন। নিত্য কাল এবং নিখিল বিশ্ব এই কথাই বলেন– “যদেতৎ হৃদযং মম’ তার সঙ্গে তোমার সম্প্রদানের মিল থাকা চাই । তোমার অনন্তং যা দেবেন আমি তাই নিতে পারি। তিনি মেঘদূতকে নিযেছেন, তা উজ্জষিনীর বিশেষ সম্পত্তি না, তাকে বিক্রমাদিত্যের সিপাই শাস্ত্রী পাহারা দিযে র্তার অন্তঃপুরের হংসপদিকাদের মহলে আটকে রাখতে পারে নি। পণ্ডিতরা লড়াই করতে থাকুন, তা খৃস্টজন্মেব পাচশো বছর পূর্বে কি পরে রচিত। তার গাযে সকল তারিখেরই ছাপ আছে। পণ্ডিতেরা তর্ক করতে থাকুন, তা শিপ্রাতীরে রচিত হযেছিল না গঙ্গাতীরে। তার মন্দাক্রাস্তার মধ্যে পূর্ববাহিনী পশ্চিমবাহিনী সকল নদীরই কলধ্বনি মুখরিত। অপর পক্ষে, এমন-সব পাচলি আছে যার অনুপ্রাসছটার চকুমকি-ঠোকা ফুলিঙ্গবর্ষণে সভাস্থ হাজার হাজার লোকে মুগ্ধ হযে গেছে, তাদের বিশুদ্ধ স্বাদেশিকতাষ আমরা যতই উত্তেজিত হই-না কেন, সে-সব পাচলির দেশ ও কাল সুনির্দিষ্ট । কিন্তু সর্বদেশ ও সর্বকাল তাদের বর্জন করাতে তার