পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্য 8S আত্মীয বলে অভ্যর্থনা করে নেয। তা হলে কোনটাকে সামনে দেখব আর কোনটাকে পিছনে। ব্যাকরণটাকে না কাব্যটিকে ? পাকশালকে না ভোজের নিমন্ত্রণকে ? গৃহকর্তার উদ্দেশুটি কোল্‌খানে প্রকাশ পায়— যেখানে নিমন্ত্রণপত্র-হাতে ছাতা-মাথায হেঁটে এলেম, না যেখানে আমার আসন পাতা হয়েছে। স্বষ্টি আর সর্জন হল একই কথা । তিনি আপনাকে পরিপূর্ণভাবে বিসর্জন করেছেন, বিলিযে দিযেছেন, বলেই আমাদের প্রাণ জুড়িযে দিযেছেন— তাই আমাদের হৃদয বলে, ‘আঃ, বাচলেম ।’ শুক্ল সন্ধ্যার আকাশ জ্যোৎস্নাষ উপছে পডেছে— যখন কমিটি-মিটিঙে তর্কবিতর্ক চলেছে তখন সেই আশ্চর্য খবরটি ভুলে থাকতে পারি, কিন্তু তার পর যখন দশটা রাত্রে মযদানের সামনে দিযে বাড়ি ফিরি তখন ঘন চিন্তার ফাকের মধ্যে দিযে যে প্রকাশটি আমার মনের প্রাঙ্গণে এসে দাড়ায তাকে দেখে আর কী বলব। বলি, আনন্দরূপমমৃতং যদৃবিভাতি । সেই-যে যৎ, আনন্দরূপে যার প্রকাশ, সে কোন পদার্থ ? সে কি শক্তিপদার্থ। রান্নাঘরে শক্তির প্রকাশ লুকিযে আছে। কিন্তু ভোজের থালায সে কি শক্তির প্রকাশ। মোগলসম্রাট প্রকাশ করতে চেযেছিলেন শক্তিকে । সেই বিপুল কাঠ-খড়ের প্রকাশকে কি প্রকাশ বলে। তার মূর্তি কোথায । আওরংজেবের নানা আধুনিক অবতাররাও রক্তরেখায শক্তিকে প্রকাশ করবার জন্তে অতি বিপুল আযোজন করেছেন। কিন্তু যিনি আবিঃ, যিনি প্রকাশস্বরূপ, আনন্দরূপে যিনি ব্যক্ত হচ্ছেন, তিনি সেই রক্তরেখার উপরে রবার বুলোতে এখনই শুরু করেছেন। আর তার আলোকরশ্মির সম্মার্জনী তাদের আযোজনের আবর্জনার উপর নিশ্চয পড়তে আরম্ভ হয়েছে। কেননা তার আনন্দ যে প্রকাশ, আর আনন্দই যে তার প্রকাশ ।