পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


83 সাহিত্যের পথে এই প্রকাশটিকে আচ্ছন্ন করে তার শক্তিকে যদি তিনি সামনে রাখতেন তা হলে তাকে মানার মতো অপমান আমাব পক্ষে আর কিছু হতে পারে না । যখন জাপানে যাচ্ছিলাম জাহাজ পড়ল দারুণ ঝডে । আমি ছিলেম ডেকে বসে। আমাকে ডুবিযে মাবার পক্ষে পবনের একটা ছোটাে নিশ্বাসই যথেষ্ট ; কিন্তু কালে সাগরের বুকের উপরে পাগলা ঝডের যে নৃত্য তার আযোজন হচ্ছে আমার ভিতরে যে পাগল মন আছে তাকে মাতিষে তোলবার জন্তে । ঐ বিপুল সমারোহের দ্বাবাই পাগলের সঙ্গে পাগলের মোকাবিলায রহস্যালাপ হতে পারল । না-হ্য ডুবেই মরতেম— সেটা কি এর চেযে বড়ো কথা। রুদ্রবীণার ওস্তাদজি তার এই রুদ্রবীণার শাগরেদকে ফেনিল তরঙ্গতাগুবের মধ্যে দুটো-একটা চক্রহাওযার দ্রুততালের তান শুনিষে দিলেন। সেইখানে বলতে পারলেম, তুমি আমার আপনার।’ অমৃতের দুটি অর্থ— একটি যার মৃত্যু নেই, এবং যা পরম রস । আনন্দ যে রূপ ধরেছে এই তো হল রস। অমৃতও যদি সেই রসই হষ তবে রসের কথা পুনরুক্ত হয মাত্র। কাজেই এখানে বলব অমৃত মানে যা মৃত্যুহীন— অর্থাৎ আনন্দ যেখানে রূপ ধরেছে সেইখানেই সেই প্রকাশ মৃত্যুকে অতিক্রম করেছে। সবাই দেখাচ্ছে কালের ভয। কালের রাজত্বে থেকেও কালের সঙ্গে যার অসহযোগ সে কোথায । এইবারে আমাদের কথা। কাব্য, যেটি ছনে গাথা হয— রূপদক্ষ যে রূপ রচনা করেন— সেটি যদি আনন্দের প্রকাশ হয তবে সে মৃত্যুজয়ী। এই ‘রূপদক্ষ কথাটি আমার নূতন পাওযা। inscription sest«, g-FÈ প্রাচীন লিপিতে পাওযা গেছে, আর্টিস্টের একটা চমৎকার প্রতিশব্দ । কাব্যের বা চিত্রের তো সমাপ্তিতে সমাপ্তি নেই। মেঘদুত শোনা হযে গেল, ছবি দেখে বাড়ি ফিরে এলেম, কিন্তু মনের মধ্যে একটা অবসাদকে তে নিযে এলেম না। গান যখন সমে এসে থামল তখন