পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্য 8V) ভারি আনন্দে মাথা ঝাকা দিলেম। সম মানে তো থামা— তাতে আনন্দ কেন । তার কাবণ হচ্ছে, আনন্দরূপ থামাতে থামে না। কিন্তু টাকাটা যেই ফুবিযে গেল তখন তো সমে মাথা নেডে বলি নে— ‘আঃ’ । গান থামল— তবু সে শূন্তের মতে, অন্ধকারেব মতো থামল না কেন । তার কারণ, গানের মধ্যে একটি তত্ত্ব আছে যা সমগ্র বিশ্বেব আত্মার মধ্যে আছে— কাজেই সে সেই ‘ওঁ’কে আশ্ৰয কবে থেকে যায ; তাব জন্তে কোনো গর্ত কোথাও নেই। এই গান আমি শুনি বা নাই শুনি, তাকে প্রত্যক্ষত কেউ নিল বা নাই নিল, তাতে কিছুই আসে যায না। কত অমূল্যধন চিত্রে কাব্যে হাবিযে গেছে, কিন্তু সেটা একটা বাহ ঘটনা, একটা আকস্মিক ব্যাপাব। আসল কথা হচ্ছে এই যে, তারা আনন্দের ঐশ্বর্যকে প্রকাশ কবেছে, প্রযোজনের দৈন্তকে করে নি। সেই দৈন্তের রূপটা যদি দেখতে চাও তবে পাটকলের কারখানাষ গিযে ঢোকো, যেখানে গরিব চাষার রক্তকে ঘূর্ণচাকার পাক দিযে বহুশতকরা হারের মুনাফায পরিণত করা হচ্ছে। গঙ্গাতীরের বটচ্ছাযাসমাশ্রিত যে দেউলটিকে লোপ করে দিযে ঐ প্রকাণ্ড-ই-করা কারখানা কালো ধোয উদ্‌গীর্ণ করছে সেই লুপ্ত দেউলের চেযেও ঐ কারখানা-ঘর মিথ্যা । কেননা আনন্দলোকে ওব স্থান নেই । বসন্তে ফুলের মুকুল রাশি রাশি ঝরে যায ; ভ্য নেই, কেননা ক্ষ্য নেই। বসন্তের ডালিতে অমৃতমন্ত্র আছে। রূপের নৈবেদ্য ভরে ভরে ওঠে। স্বষ্টির প্রথম যুগে যে-সব ভূমিকম্পের মহিষ তার শিঙের আক্ষেপে ভূতল থেকে তপ্তপঙ্ক উৎক্ষিপ্ত করে দিচ্ছিল তারা আর ফিরে এল না ; যে-সব অগ্নিনাগিনী রসাতলের আবরণ ফুড়ে ক্ষণে ক্ষণে ফণা তুলে পৃথিবীর মেঘাচ্ছন্ন আকাশকে দংশন করতে উদ্যত হযেছিল তার কোন বাশি শুনে শাস্ত হযে গেল। কিন্তু কচি কচি শুামল ঘাসের কোমল চুম্বন আকাশের নীল চোখকে বারে বারে জুড়িযে দিচ্ছে।