পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


88 সাহিত্যের পথে তারা দিনে দিনে ফিরে ফিরে আসে । আমার ঘরের দরজার কাছে কযেকটি কাটাগাছে বসন্তের সোহাগে ফুল ফুটে ওঠে। সে হল কন্টিকারীর ফুল। তার বেগুনি রঙের কোমল বুকের মাঝখানে একটুখানি হলদে সোনা। আকাশে তাকিযে যে স্বর্যের কিরণকে সে ধ্যান করে, সেই ধ্যানটুকু তার বুকের মাঝখানটিতে যেন মধুর হযে রইল। এই ফুলের কি খ্যাতি আছে। আর, এ কি ঝরে ঝরে পড়ে না। কিন্তু তাতে ক্ষতি হল কী। পৃথিবীর অতি বড়ে বড়ো পালোযানের চেয়ে সে নির্ভর্য। অস্তরের আনন্দের মধ্যে সে রয়েছে, সে অমৃত। যখন বাইরে সে নেই, তখনও রযেছে। মৃত্যুর হাতুড়ি পিটিযেই মহাকালের দরবারে অমৃতের যাচাই হতে থাকে। স্টের মৃত্যুসংবাদে এই কথাটাই না খৃস্টীয পুরাণে আছে। মৃত্যুর আঘাতেই তার অমৃতের শিখা উজ্জল হযে প্রকাশ হল নী কি। কিন্তু একটি কথা মনে রাখতে হবে, আমার কাছে বা তোমার কাছে ঘাড়-নাডা পাওযাকেই অমৃতের প্রকাশ বলে না। যেখানে সে রযে গেল সেখানে আমাদের দৃষ্টি না যেতেও পারে, আমাদের স্মৃতির পরিমাণে তার অমৃতত্বের পরিমাণ নয। পূর্ণতার আবির্ভাবকে বুকে করে নিযে সে যদি এসে থাকে তা হলে মুহূর্তকালের মধ্যেই সে নিত্যকে দেখিযে দিযেছে— আমার ধারণার উপরে তার আশ্রয নয । হযতো এ-সব কথা তত্ত্বজ্ঞানের কোঠায পডে— আমার মতো আনাড়ির পক্ষে বিশ্ববিদ্যালযে তত্ত্বজ্ঞানের আলোচনায অবতীর্ণ হওয অসংগত। কিন্তু আমি সেই শিক্ষকের মঞ্চে দাড়িযে কথা বলছি নে। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাষ অন্তরে বাহিরে রসের যে পরিচয পেযেছি আমি তারই কাছ থেকে ক্ষণে ক্ষণে আমার প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করেছি । তাই আমি এখানে আহরণ করছি। আমাদের দেশে পরমপুরুষের