পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(to সাহিত্যের পথে সঞ্চিত করতে থাকে। অর্থকামনার ঐক্য বড়ো ঐক্যকে আঘাত করতে থাকে। সেইজন্তে উপনিষদ যেখানে বলেছেন, নিখিল বিশ্বকে একের দ্বারা পূর্ণ করে দেখবে, সেইখানেই বলেছেন, মা গৃধ – লোভ করবে না। কারণ, লোভের দ্বারা একের ধারণা থেকে, একের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে হয। লোভীর হাতে কামনার সেই লণ্ঠন যা কেবল একটি বিশেষ সংকীর্ণ জাযগায তার সমস্ত আলো সংহত করে ; বাকি সব জাযগার সঙ্গে তার অসামঞ্জস্য গভীর অন্ধকারে ঘনীভূত হযে ওঠে। অতএব লোভের এই সংকীর্ণ ঐক্যের সঙ্গে স্বষ্টির ঐক্যের, রসসাহিত্য ও ললিতকলার ঐক্যের সম্পূর্ণ তফাত। নিখিলকে ছিন্ন করে হয লাভ, নিখিলকে এক করে হয রস । লক্ষপতি টাকার থলি নিষে ভেদ ঘোষণা করে ; আর গোলাপ নিখিলের দূত, একের বার্তাটি নিযে সে ফুটে ওঠে। যে এক অসীম, গোলাপের হৃদযটুকু পূর্ণ কবে সেই তো বিরাজ করে। কীটস তার কবিতায নিখিল একের সঙ্গে গ্রীক পাত্রটির ঐক্যের কথা জানিযেছেন । তিনি বলেছেন— Thou, silent form I dost tease us out of thought As doth eternity. হে নীরব মূতি, তুমি আমাদের মনকে ব্যাকুল করে সকল চিন্তার বাইবে নিযে যাও, যেমন নিষে যায অসীম। কেননা, অখণ্ড একের মূর্তি যে আকারেই থাকৃ-না, অসীমকেই প্রকাশ করে ; এইজন্যই সে অনির্বচনীয, মন এবং বাক্য তার কিনারা না পেযে ফিরে ফিরে আসে । অসীম একের সেই আকুতি, যা ঋতুদের ডালায ডালায ফুলে ফুলে বারে বারে পূর্ণ হয়েও নিঃশেষিত হল না, সেই স্বষ্টির আকুতিই তো রূপদক্ষের কারুকলার মধ্যে আবির্ভূত হষে আমাদের চিত্তকে চিন্তার বাইরে উদাস করে নিষে যাষ । অসীম একের আকুতিই তো সেই বেদনা যা, বেদ বলেছেন, সমস্ত আকাশকে ব্যথিত করে রযেছে। সে