পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


&Հ সাহিত্যের পথে যেমন করে পারে আমার অব্যক্ত ব্যথাটিকে ব্যক্ত করে দাও।” এই ব্যাকুল প্রার্থনা যার হৃদযের গভীরে এসে পোঁচেছে সে আপিসের তাড়া, ব্যবসাযের তাগিদ, হিতৈষীর কড়া হুকুম ঠেলে ফেলে দিযে বেরিযে পড়েছে। কিছু না, একখানি তমুর হাতে নিযে ঘর ছেড়ে বাইরে এসেছে। কী যে করবে কে জানে। সুরের পর সুর, রাগের পর রাগ যে তার অন্তরে বাজিযে তুলবে সে কে। সে তো বিজ্ঞানে যাকে প্রকৃতি বলে থাকে সেই প্রকৃতি নষ । প্রাকৃতিক নির্বাচনের জমাখরচের খাতাষ তার হিসাব মেলে না । প্রাকৃতিক নির্বাচন তার জঠরের মধ্যে হুকুম জাহির করছে। কিন্তু মানুষ কি পশু যে প্রাকৃতিক নির্বাচনের চাবুকের চোটে প্রকৃতির নির্দিষ্ট পথে চলবে। লীলাম্য মানুষ প্রকৃতিকে ডেকে বললে, “আমি রসে ভোর, আমি তোমার ভাবেদার নই, চাবুক লাগাও তোমার পশুদের পিঠে । আমি তো ধনী হতে চাই নে, আমি তো পালোযান হতে চাই নে, আমার মধ্যে সেই বেদনা আছে যা নিখিলের অন্তরে । আমি লীলামযের শরিক ? এই কথাটি জানতে হবে— মানুষ কেন ছবি আঁকতে বসে, কেল গান করে। কখনও কখনও যখন আপন মনে গান গেযেছি তখন কীটুসের মতোই আমাকেও একটা গভীর প্রশ্ন ব্যাকুল করে তুলেছে— জিজ্ঞাসা করেছি, এ কি একটা মাযামাত্র না এর কোনো অর্থ আছে। গানের স্বরে নিজেকে ভাসিযে দিলেম, আর সব জিনিসের মূল্য যেন এক মুহূর্তে বদলে গেল। যা অকিঞ্চিৎকর ছিল তাও অপরূপ হযে উঠল। কেন । কেননা গানের সুরের আলোয এতক্ষণে সত্যকে দেখলুম। অস্তরে সর্বদা এই গানের দৃষ্টি থাকে না বলেই সত্য তুচ্ছ হযে সরে যায। সত্যের ছোটো বডো সকল রূপই যে অনির্বচনীয তা আমরা অনুভব করতে পারি নে। নিত্য-অভ্যাসের স্থল পর্দাষ তার দীপ্তিকে আবৃত করে দেয । সুরের বাহন সেক্ট পর্দার আডালে সত্যলোকে