পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


6.や সাহিত্যেব পথে তা হলেই তার পরিচয় সম্পূর্ণ হয। তা যদি না হয অথচ যদি তথ্য হিসাবে সে বস্তু একেবারে নিখুত হয, তা হলে অরসিক তাকে বরমাল্য দিলেও রসজ্ঞ তাকে বর্জন করেন। জাপানি কোনো ওস্তাদের ছবিতে দেখেছিলুম, একটি মূতির সামনে স্বর্য কিন্তু পিছনে ছাযা নেই। এমন অবস্থায যে লম্বা ছাযা পড়ে, এ কথা শিশুও জানে। কিন্তু বস্তুবিদ্যার খবর দেবার জন্তে তো ছবির স্মৃষ্টি নয। কলারচনাতেও যারা ভযে ভযে তথ্যের মজুরি করে তারা কি ওস্তাদ। অতএব রূপের মহলে রসের সত্যকে প্রকাশ করতে গেলে তথ্যের দাসখত থেকে মুক্তি নিতে হয। একটা ছেলে-ভোলানো ছড়া থেকে এর উদাহরণ দিতে চাই— খোকা এল নাযে লাল জুতু্য পাযে । জুতা জিনিসটা তথ্যের কোঠাষ পডে— এ সম্বন্ধে কোনো সন্দেহ থাকতে পারে না। চীনে মুচির দোকানে নগদ কড়ি দিলেই মাপসই জুতা পছন্দসই আকারে পেতে সবাই পারে। কিন্তু জুতু্যা ! চীনেম্যান দূরে থাকৃ, বিলিতি দোকানের বড়ো ম্যানেজারও তার খবর রাখে না । জুতু্যার খবর রাখে মা, আর রাখে খোকা । এইজন্যই এই সত্যটিকে প্রকাশ করতে হবে বলে জুতা-শব্দের ভদ্রতা নষ্ট করতে হল। তাতে আমাদের শব্দাম্বুধি বিক্ষুব্ধ হতে পারে, কিন্তু তথ্যের জুতা সত্যের মহলে চলে না বলেই ব্যাকরণের আক্রোশকেও উপেক্ষা করতে হয । কবিতা যে ভাষা ব্যবহার করে সেই ভাষার প্রত্যেক শব্দটির অভিধাননির্দিষ্ট অর্থ আছে। সেই বিশেষ অর্থেই শব্দের তথ্যসীমা । এই সীমাকে ছাড়িযে শব্দের ভিতর দিযেই তো সত্যের অসীমতাকে প্রকাশ করতে হবে । তাই কত ইশারা, কত কৌশল, কত ভঙ্গি । জ্ঞানদাসের একটি পদ মনে পড়ছে—