পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বাক্ট ○○ বিরাজ করে সেই সত্যের ক্ষ্য নেই। রোমিয়ো-জুলিয়েটকে যখন সাহিত্যভুবনে দেখি তখন কোনো মূঢ় জিজ্ঞাসা করে না, ব্যান্ধে তাদের কত টাকা জমা আছে, ষড় দর্শনে তাদের ব্যুৎপত্তি কতদূর, এমনকি, দেবদ্বিজে তারা ভক্তিমান কি না এবং নিত্যনিষমিত সন্ধ্যাহিকে তাদের কী পরিমাণ নিষ্ঠ । তারা সত্য এইমাত্র তাদের মহিমা, সাহিত্য সেই কথাই প্রমাণ করে। সেই সত্যে যদি তিলমাত্র ব্যত্যয ঘটে, অথচ নাযক নাষিক দোহে মিলে যদি দশাবতারের মুনিপুণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা গীতার শ্লোক থেকে দেশাত্মবোধের আশ্চর্য অর্থ উদঘাটন কবতে পারে, তবু তাদের কেউ বাচাতে পারবে না। শুধু কেবল মানুষ কেন, অজীব সামগ্রীকে যখন আমরা কাব্যকলার রথে তুলে তথ্যসীমার বাহিরে নিযে যাই তখন সত্যের মূল্যে সে মূল্যবান হযে ওঠে। কলকাতায আমার এক কাঠা জমির দাম পাচ দশ হাজার টাকা হতে পারে, কিন্তু সত্যের রাজত্বে সেই দামকে আমরা দাম বলেই মানি নে— সে দাম সেখানে টুকরো টুকরো হযে ছিডে যায। বৈষষিক মূল্য সেখানে পরিহাসের দ্বারা অপমানিত। নিত্যলোকে রস লোকে তথ্যবন্ধন থেকে মানুষের এই-যে মুক্তি, এ কি কম মুক্তি। এই মুক্তির কথা আপনাকে আপনি স্মরণ করিযে দেবার জন্তে মানুষ গান গেযেছে, ছবি এঁকেছে, আপন সত্য-ঐশ্বর্যকে হাট-বাজার থেকে বাচিযে এনে সুন্দরের নিত্য-ভাণ্ডারে সাজিযে রেখেছে , তার নি-কডিযা ধনকে নি-কড়িযা বাশির সুরে গেথে রেখেছে। আপনাকে আপনি বারবার বলেছে, “ঐ আনন্দলোকেই তোমার সত্য প্রকাশ ।” আমি কী বোঝাব তোমাদের কাকে বলে সাহিত্য, কাকে বলে চিত্রকলা। বিশ্লেষণ করে কি এর মর্মে গিযে পৌছতে পারি। কোন আদি-উৎস থেকে এর স্রোতের ধারা বাহির হযেছে এক মুহূর্তে তা বোঝা যায যখন সেই স্রোতে মন আপনার গা ভাসিযে দেয। আজ সেই বঁাশিব