পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের পথে 8 ولا স্বরে যখন মন তেসেছিল তখন বুঝেছিলেম বুঝিষে দেবার কথা এর মধ্যে কিছু নেই, এর মধ্যে ডুব দিলেই সব সহজ হয়ে আসে। নীলাকাশের প্রত্যেকের নিমন্ত্রণ ” এ কথা বলেছে বসত্তের হাওযায বিরহের মরমিযী কবি। সকালবেলাষ প্রভাতকিরণের দূত এসে ধাক্কা দিল। কী। না, নিমন্ত্রণ আছে। উদাস মধ্যাহে মধুকরগুঞ্জিত বনচ্ছাষা দূত হযে এসে ধাক্কা দিল, নিমন্ত্রণ আছে। সন্ধ্যামেঘে অস্তস্বর্যচ্ছটায সে দূত আবার বললে, নিমন্ত্রণ আছে। এত সাজসজ্জা এই দূতের, এত ফুলের মালা, এত গৌরবের মুকুট । কার জন্তে । আমার জন্তে । আমি রাজ নই, জ্ঞানী নই, গুণী নই— আমি সত্য, তাই আমার জন্তে সমস্ত আকাশের রঙ নীল ক’রে, সমস্ত পৃথিবীর আঁচল শু্যামল ক’রে, সমস্ত নক্ষত্রের অক্ষর উজ্জল ক’রে আহবানের বাণী মুখরিত। এই নিমন্ত্রণের উত্তর দিতে হবে না কি। সে উত্তর ঐ আনন্দধামের বাণীতেই যদি না লিখি তা হলে কি গ্রাহ হবে। মানুষ তাই মধুর কবেই বললে, “আমার হৃদযের তারে তোমার নিমন্ত্রণ বাজল ৷ রূপে বাজল, ভাবনায বাজল, কর্মে বাজল— হে চিরসুন্দর, আমি স্বীকার করে নিলেম । আমিও তেমনি সুন্দর করে তোমাকে চিঠি পাঠাব যেমন করে তুমি পাঠালে। যেমন তুমি তোমার অনির্বাণ তারকার প্রদীপ জেলে তোমাব দূতের হাতে দিযেছ, আমাকেও তেমনি করে আলো জালতে হবে, যে আলো নেবে না ; মালা গাথতে হবে, যে মালা শুকোতে জানে না। আমি মানুষ, আমার ভিতর যদি অনন্তের শক্তি থাকে তবে সেই শক্তির ঐশ্বর্য দিযেই তোমার আমন্ত্রণের উত্তর দেব।’ মানুষ এমন কথা সাহস করে বলেছে, এতেই তার সকলের চেযে বড়ো গৌরব। আজ যখন আমাদের গলিতে বরবধুর সত্যস্বরূপ অর্থাৎ আনন্দস্বরূপ