পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বাক্ট @@ প্রকাশ করবার ভার নিলে ঐ বাশি তখন আমি নিজেকে জিজ্ঞাসা করলেম, কী মন্ত্রে বঁাশি আপনার কাজ সমাধা করে। আমাদের তত্ত্বজ্ঞানী তো বলে, অনিশ্চিতের দোলায় সমস্ত সংসার দোদুল্যমান ; বলে, যা দেখ কিছুই সত্য নয। আমাদের নীতিনিপুণ বলে, ঐ-যে ললাটে ওরা চন্দন পরেছে, ও তো ছলনা, ওর ভিতর আছে মাথার খুলি। ঐ-যে মধুর হাসি দেখতে পাচ্ছ, ঐ হাসির পর্দা তুলে দেখো, বেরিযে পড়বে শুকনো দাতের পাটি। বাশি তর্ক করে তার কোনো জবাব দেয না, কেবল তার খাম্বাজের সুরে বলতে থাকে, খুলি বল, দাতের পাটি বল, যত কালই টি কে থাকৃ-না কেন— ওরা মিছে ; কিন্তু ললাটে যে আনন্দের সুগন্ধলিপি আছে, মুখে যে লজ্জার হাসির আভা দিচ্ছে, যা এখন আছে তখন নেই, যা ছাযার মতো, মাযার মতে, যাকে ধরতে গেলে ধরা যায না, তাই সত্য, করুণ সত্য, মধুর সত্য, গভীর সত্য। সেই সত্যকেই ংসারেব সমস্ত আনাগোনার উপরে উজ্জল করে ধরে বঁাশি বলছে, ‘সত্যকে যেদিন প্রত্যক্ষ দেখবে সেইদিনই উৎসব ।” বুঝলুম, কিন্তু বিনা তর্কে বঁাশি এতবড়ো কথাটাকে সপ্রমাণ করে কী করে। এ কথাটা কাল আলোচনা করেছিলুম। বাশি একের আলো জালিযেছে । আকাশে রাগিণী দিযে এমন একটি রূপের স্বষ্টি করেছে যার আর-কোনো উদ্দেশু নেই, কেবল ছন্দে স্বরে সুসম্পূর্ণ এককে চরমরূপে দেখানে । সেই একের জীযনকাটি যার উপরে পডল আপনার মধ্যে গভীর নিত্যসত্যের চিরজাগ্রত চিরসজীব স্বরূপটি সে দেখিযে দিলে ; বরবধু বললে, “আমরা সামান্ত নই, আমরা চিরকালের’— বললে, ‘মৃত্যুর মধ্য দিযে যারা আমাদের দেখে তারা মিথ্যা দেখে । আমরা অমৃতলোকের, তাই গান ছাড আমাদের পরিচয আর-কিছুতে দিতে পারি না । বর-কনে আজ সংসারের স্রোতে ভাসমান খাপছাড়া পদার্থ নয, আজ তারা মধুরের ছন্দে একখানি কবিতার মতো, গানের মতো,