পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(ყ\9 সাহিত্যের পথে । ছবির মতে আপনাদের মধ্যে একের পরিপূর্ণতা দেখাচ্ছে। এই একের প্রকাশতত্ত্বই হল স্মৃষ্টির তত্ত্ব, সত্যের তত্ত্ব। সংগীত কোনো-একটি রাগিণীতে যতই রমণীয় সম্পূর্ণ রূপ গ্রহণ করুকনা কেন, সাধারণ ভাষায় এবং বাহিরের দিক থেকে তাকে অসীম বলা যায় না। রূপের সীমা আছে। কিন্তু রূপ যখন সেই সীমামাত্রকে দেখায় তখন সত্যকে দেখায় না। তার সীমাই যখন প্রদীপের মতো অসীমের আলো জালিয়ে ধরে তখনই সত্য প্রকাশ পায় । আজকেকার সানাই-বাজনাতেই এ কথা আমি অনুভব করছি। প্রথম দুই-একটা তালের পরই বুঝতে পারলুম, এ বাশিটা আনাড়ির হাতে বাজছে, স্বরটা খেলো মুর। বার বার পুনরাবৃত্তি, তার স্বরের মধ্যে কোথাও সুরের নম্রতা নেই, তরুহীন মাটির মধ্যে ছাযাহীন মধ্যাহ্নরৌদ্রের মতো। যত বোক সমস্তই আওযাজের প্রখরতার উপর। ংগীতের আযতনটাকেই বড়ো করে তোলবার দিকে বলবান প্রযাস । অর্থাৎ সীমা এখানে আপনাকেই বড়ো করে দেখাতে চাচ্ছে— তারই ’পরে আমাদের মন না দিযে উপায় নেই। তার চরমকে সে আপনার পালোয়ানির দ্বারা ঢেকে ফেলছে। সীমা আপন সংযমের দ্বারা আপনাকে আড়াল ক’রে সত্যকে প্রকাশ করে । সেইজন্যে সকল কলাস্থষ্টিতেই সরলতার সংযম একটা প্রধান বস্তু। সংযমই হচ্ছে সীমার তর্জমী দিয়ে অসীমকে নির্দেশ করা । কোনো জিনিসের অংশগুলিই যখন সমগ্রের তুলনায় বড়ো হযে ওঠে তখনই তাকে বলে অসংযম। সেটাই হল একের বিরুদ্ধে অনেকের বিদ্রোহ। সেই বাহ-অনেকের পরিমাণ যতোই বড়ো হতে থাকে অন্তর্যামী-এক ততই আচ্ছন্ন হয়। যিশু বলেছেন, ‘বরঞ্চ উট চুচের ছিদ্র দিয়ে গলতে পারে কিন্তু ধনের আতিশয্য নিয়ে কোনো মানুষ দিব্যধামে প্রবেশ করতে পারে না।’ তার মানে হচ্ছে, অতিমাত্রায় ধন জিনিসটা মানুষের বাহ অসংযম। উপকরণের