পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বষ্টি Øፃ বাহুল্য দ্বারা মানুষ আত্মার সুসম্পূর্ণ ঐক্য-উপলব্ধি থেকে বঞ্চিত হয়। তার অধিকাংশ চিন্তা চেষ্টা খণ্ডিতভাবে বহুল সঞ্চয়ের মধ্যে বাহিরে বিক্ষিপ্ত হতে থাকে। যে এক সম্পূর্ণ, যে এক সত্য, যে এক অসীম, আপনার মধ্যে তার প্রকাশকে ধনী বহুবিচিত্রের মধ্যে ছড়াছড়ি ক’রে নষ্ট করে। জীবন-বাশিতে সেই তো খেলে মুর বাজায়— তানের অদ্ভুত কসরৎ, জুন চৌদুনের মাতামাতি, তারস্বরের অসহ দাম্ভিকতা। এতেই অরসিকের চিত্ত বিস্ময়ে অভিভূত হয়। রূপের সংযমের মধ্যে যার সত্যের পূর্ণরূপ দেখতে চায় তার রূপের জঙ্গলের প্রবলতার দস্যবৃত্তি দেখে পালাবার পথ খুজে বেড়ায়। সেখানে রূপ হাক দিয়ে দিয়ে বলে, “আমাকে দেখো ।” কেন দেখব । জগতে রূপের সিংহাসনে অরূপকে দেখব বলেই এসেছি। কিন্তু জগতে বিজ্ঞান যেমন অবস্তুকে খুঁজে বের করে বলছে, “এই তো সত্য’, রূপজগতে কলা তেমনি অরূপ রসকে দেখিয়ে বলছে, “ঐ তো আমার সত্য।’ যখন দেখলুম সেই সত্য তখন রূপ আর আমাকে লোভ দেখাতে পারে না, তখন কসরৎকে বলি ধিকৃ। পেটুক মানুষের যখন পেটের ক্ষুধা ঘোচে তখনও তার মনের ক্ষুধা ঘোচে না। মেয়েরা খুশি হয়ে তার পাতে যত পারে পিটেপুলি চাপাতে থাকে। অবশেষে একদিন অম্লশূলরোগীর সেবার জন্য সেই মেয়েদের ’পরেই ডাক পড়ে। সাহিত্যকলার ক্ষেত্রে যারা পেটুক তারাই রূপের লোভে অতিভোগের সন্ধান করে— তাদের মুক্তি নেই। কারণ রূপের মধ্যে সত্যের আবির্ভাব হলে সত্য সেই রূপ থেকেই মুক্তি দেয়। যারা ফর্ম। গণনা করে পুথির দাম দেয় তাদের মন পুথিচাপা পড়ে কবরস্থ হয় । কলাস্থষ্টিতে রসসত্যকে প্রকাশ করবার সমস্তা হচ্ছে— রূপের দ্বারাই অরূপকে প্রকাশ করা, অরূপের দ্বারা রূপকে আচ্ছন্ন করে দেখা, ঈশোপনিষদের সেই বাণীটিকে গ্রহণ করা, পুর্ণের দ্বারা সমস্ত চঞ্চলকে