পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* 6 সাহিত্যের পথে গৌরব লাভ করে, সেখানে প্রত্যেক মানুষের জন্তে সমগ্র মানুষের তপস্যা । যেখানে মহাসাধকেরা সাধন করছেন প্রত্যেক মানুষের জন্তে, মহাবীরেরা প্রাণ দিযেছেন প্রত্যেক মানুষের জন্তে, মহাজ্ঞানীরা জ্ঞান এনেছেন প্রত্যেক মানুষের জন্তে । যেখানে একজন ধনী দশজনকে শোষণ করছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষের স্বাতন্ত্র্যকে হরণ করে একজন শক্তিশালী হচ্ছে, যেখানে বহু লোকের ক্ষুধার অন্ন একজন লোকের ভোগবাহুল্যে পরিণত হচ্ছে, সেখানে মানুষের সত্যরূপ শাস্তিরূপ আপন সুন্দর স্বষ্টির মধ্যে প্রকাশ পেল না। যে মানুষ লোভী, চিরদিনই সে নির্লজ্জ ; যে লোক শক্তির অভিমানী, সত্যযুগেও নিখিলের সঙ্গে আপন অসামঞ্জস্য নিয়েই সে দম্ভ করেছে। কিন্তু সেকালে তার লজাহীনতাকে, তার দত্তকে তিরস্কৃত করবার লোক ছিল । মানুষ সেদিন লোতীকে, শক্তিশালীকে, এ কথা বলতে কুষ্ঠিত হয় নি— ‘পৃথিবীতে মুম্বরের বাণী এসেছে, তুমি তাতে বেসুর লাগিয়ে না ; জগতে আনন্দলক্ষ্মীর যে সিংহাসন সে যে শতদল পদ্ম, মত্ত করার মতো তাকে দলতে যেয়ে না।’ এই কথাই বলছে কবির কাব্য, চিত্রীর চিত্রকলা । আজ বিবাহের দিনে বঁাশি বলছে, বরবধু, তোমরা যে সত্য এই কথাটাই অন্য-সকল কথার চেয়ে বড়ো করে আপনাদের মধ্যে প্রকাশ করে । লাখ-জুলাখ টাকা ব্যাঙ্কে জমছে বলেই যে সত্য তা নয, যে সত্যের বাণী আমি ঘোষণা করি সে সত্য বিশ্বের ছন্দের ভিতর, চেক-বইয়ের অঙ্কের মধ্যেই নয। সে সত্য পরস্পরের সঙ্গে পরস্পরের অমৃতসম্বন্ধে— গৃহসজ্জার উপকরণে নয়। সেই হচ্ছে সম্পূর্ণের সত্য, একের সত্য।’ আজ আমি সাহিত্যের কারুকারিতা সম্বন্ধে, তার ছন্দতত্ত্ব তার রচনারীতি সম্বন্ধে কিছু আলোচনা করব মনে স্থির করেছিলুম। এমন সময় বাজল বাশি । ইন্দ্রদেব মুন্দরকে দিয়ে বলে পাঠালেন, ‘ব্যাখ্যা করেই যে সব কথা বলা যায়, আর তপস্যা করেই যে সব সাধনায়