পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্মৃষ্ট্রি ) সিদ্ধিলাভ হয, এমন-সব লোকপ্রচলিত কথাকে তুমি কি কবি হযেও বিশ্বাস কব । ব্যাখ্যা বন্ধ করে, তপস্যা ভঙ্গ করে যে ফল পাওযা যায সেই হল অখণ্ড ; সে তৈরি-করা জিনিস নয, সে আপনি ফ’লেওঠা জিনিস ? ধর্মশাস্ত্রে বলে, ইন্দ্রদেব কঠোব সাধনার ফল নষ্ট করবার জন্যেই মধুরকে পাঠিযে দেন। আমি দেবতার এই ঈর্ষা, এই প্রবঞ্চনা বিশ্বাস করি নে। সিদ্ধির পরিপূর্ণ অখণ্ড মূর্তিটি যে কিরকম তাই দেখিযে দেবার জন্যেই ইন্দ্ৰ মধুরকে পাঠিযে দেন। বলেন, “এ জিনিস লড়াই করে তৈরি করে তোলবার জিনিস নয ; এ ক্রমে ক্রমে থাকে থাকে গড়ে ওঠে না। সত্য স্বরে গানটিকে যদি সম্পূর্ণ করে তুলতে চাও তা হলে রাতদিন বাও-কষাকষি করে তা হবে না। তমুরার এই খাটি মধ্যম-পঞ্চম সুরটিকে প্রত্যক্ষ গ্রহণ করে এবং অখণ্ড সম্পূর্ণতাটিকে অস্তরে লাভ করে, তা হলে সমগ্র গানের ঐক্যটি সত্য হবে।’ মেনকা উর্বশী এরা হল ঐ তমুবার মধ্যম-পঞ্চম মুর— পরিপূর্ণতার অখণ্ড প্রতিমা। সন্নাসীকে মনে করিযে দেয সিদ্ধির ফল জিনিসটা কী রকমের। স্বৰ্গকামী, তুমি স্বৰ্গ চাও? তাই তোমার তপস্যা ? কিন্তু স্বর্গ তো পরিশ্রম করে মিস্ত্রি দিযে তৈরি হয নি। স্বর্গ যে স্মৃষ্টি। উর্বশীর ওষ্ঠপ্রান্তে যে হাসিটুকু লেগে আছে তার দিকে চেযে দেখো, স্বর্গের সহজ মুরটুকুর স্বাদ পাবে। তুমি মুক্তিকামী, মুক্তি চাও? একটু একটু করে অস্তিত্বের জাল ছিড়ে ফেলাকে তো মুক্তি বলে না। মুক্তি তো বন্ধনহীন শূন্তত নয। মুক্তি যে স্মৃষ্টি। মেনকার কবরীতে যে পারিজাত ফুলটি রযেছে তার দিকে চেযে দেখো, যুক্তির পূর্ণরূপের মূর্তিটি দেখতে পাবে। বিধাতার রুদ্ধ আনন্দ ঐ পারিজাতের মধ্যে মুক্তি পেয়েছে — সেই অরূপ আনন্দ রূপের মধ্যে প্রকাশ লাভ করে সম্পূর্ণ হয়েছে। বুদ্ধদেব যখন বোধিক্রমের তলায বসে কৃচ্ছসাধনকরেছেন তখন উার পীড়িত চিত্ত বলেছে ‘হল না’, ‘পেলুম না। তার পাওযার পূর্ণ