পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৭২ সাহিত্যের পথে রূপের প্রতিমা বাইরে দেখতে পেলেন কখন । যখন সুজাতা অল্প এনে দিলে। সে কি কেবল দেহের অন্ন। তার মধ্যে যে ভক্তি ছিল, প্রীতি ছিল, সেবা ছিল, সৌন্দর্য ছিল— সেই পাযস-অন্নের মধ্যেই অমৃত অতি সহজে প্রকাশ পেল। ইন্দ্রদেব কি সুজাতাকে পাঠান নি। সেই সুজাতার মধ্যেই কি অমরাবতীর সেই বাণী ছিল না যে, কৃচ্ছ সাধনে মুক্তি নেই, মুক্তি আছে প্রেমে। সেই ভক্তহৃদযের অন্ন-উৎসর্গের মধ্যে মাতৃপ্রাণের যে সত্য ছিল সেই সত্যটি থেকেই কি বুদ্ধ বলেন নি, ‘এক পুত্রের প্রতি মাতার যে প্রেম সেই অপরিমেষ প্রেমে সমস্ত বিশ্বকে আপন করে দেখাকেই বলে ব্রহ্মবিহার। অর্থাৎ মুক্তি শুষ্ঠতায নয, পূর্ণতায । এই পূর্ণতাই স্মৃষ্টি করে, ধ্বংস করে না। মানবাত্মার যে প্রেম অসীম আত্মার কাছে আপনাকে একাত্ত নিবেদন করে দিযেই আনন্দ পাষ, তার চেযে আর-কিছুই চাষ না, যিশুখৃস্ট তারই সহজ স্বরূপটিকে বাহিরের মূর্তিতে কোথায দেখেছিলেন । ইন্দ্রদেব আপন স্মৃষ্টি থেকে এই মূর্তিটিকে তার কাছে পাঠিযেছিলেন। মার্থ আর মোরি দুজনে তার সেবা কবতে এসেছিল। মার্থী ছিল কর্তব্যপরাযণা, সেবাব কঠোবতায সে নিত্যনিযত ব্যস্ত। মোরি সেই ব্যস্ততার ভিতর দিযে আত্মনিবেদনেই পূর্ণতাকে বহু প্রয়াসে প্রকাশ করে নি। সে আপন বহুমূল্য গন্ধতৈল খৃস্টেব পাযে উজাড় করে ঢেলে দিলে। সকলে বলে উঠল, “এ যে অন্যায অপব্যয়।” খৃস্ট বললেন, “না না, ওকে নিবারণ কোরো না।’ স্থষ্টিই কি অপব্যয নয়। গানে কি কারও কোনো লাত আছে। চিত্রকলায কি অন্নবস্ত্রের অভাব দূর হয়। কিন্তু রসস্থটির ক্ষেত্রে মানুষ আপন পূর্ণতাকে উৎসর্গ করে দিয়েই পূর্ণতার ঐশ্বর্য লাভ করে। সেই ঐশ্বর্য শুধু তার সাহিত্যে ললিতকলায় নয়, তার আত্মবিসর্জনের লীলাভূমি সমাজে নানা স্মৃষ্টিতেই প্রকাশ পায। সেই স্থষ্টির মূল্য জীবনযাত্রার উপযোগিতাষ নয,