পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ፋg সাহিত্যের পথে ছন্দের মাত্রায চলে তার পরিমাপ করবার জন্তে-বৈজ্ঞানিক অভাবপক্ষে একটা টিনের চোঙ ব্যবহার করতে একটুও পীড়া বোধ করেন না। রাজকন্যা নিজের হাতে দুধের থেকে যে নবনী মন্থন করে তোলেন সওদাগরের পুত্র তাকে চৌকো টিনের মধ্যে বদ্ধ করে বড়োবাজারে চালান দিযে দিব্য মনের তৃপ্তি পান। কিন্তু রাজপুত্র ঐ রাজকন্যার জন্তে টিনের বাজুবন্ধ গডাবার আভাস স্বপ্নে দেখলেও নিশ্চয দম আটকে ঘেমে উঠবেন। ঘুম থেকে উঠেই সোনা যদি নাও জোটে অন্তত চাপাকুঁড়ির সন্ধানে তাকে বেরোতেই হবে। এর থেকেই বোঝা যাবে, সাহিত্যতত্ত্বকে অলংকারশাস্ত্র কেন বলা হয। সেই ভাব, সেই ভাবনা, সেই আবির্ভাব, যাকে প্রকাশ করতে গেলেই অলংকার আপনি আসে, তর্কে যার প্রকাশ নেই, সেই হল সাহিত্যের । অলংকার জিনিসটাই চরমের প্রতিরূপ। মা শিশুর মধ্যে পান রসবোধের চরমতা— তার সেই একান্ত বোধটিকে সাজে সজ্জাতেই শিশুর দেহে অকুপ্রকাশিত করে দেন। ভূত্যকে দেখি প্রযোজনের বাধা সীমানায, বাধা বেতনেই তার মূল্য শোধ হয। বন্ধুকে দেখি অসীমে, তাই আপনি জেগে ওঠে ভাষায অলংকার, কণ্ঠের সুরে অলংকার, হাসিতে অলংকার, ব্যবহারে অলংকার। সাহিত্যে এই বন্ধুর কথা অলংকৃত বাণীতে। সেই বাণীর সংকেত-ঝংকারে বাজতে থাকে, ‘অলম’— অর্থাৎ বাস, আর কাজ নেই। এই অলংকৃত বাক্যই হচ্ছে রসাত্মক বাক্য । ইংরেজিতে যাকে real বলে, বাংলায তাকে বলি যথার্থ, অথবা সার্থক। সাধারণ সত্য হল এক, আর সার্থক সত্য হল আর । সাধারণ সত্যে একেবারে বাছবিচার নেই, সার্থক সত্য আমাদের বাছাই-করা । মানুষমাত্রেই সাধারণ সত্যের কোঠাষ, কিন্তু যথার্থ মানুষ