পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ግዜ” সাহিত্যের পথে অধরের সঙ্গে তার উপমা অগ্রাহ হত। তিসিফুল সর্ষেফুলের রূপের তাদের নম্ৰ নমস্কারের প্রতিদান দিতে চায় না। শিরীষফুলের সঙ্গে গোলাপজামফুলের রূপে-গুণে ভেদ নাই, তবু কাব্যের পংক্তিতে ওর কৌলীন্য গেল, কেননা গোলাপজাম নামটা ভোজন-লোভের দ্বারা লাঞ্ছিত। যে কবির সাহস আছে সুন্দরের সমাজে তিনি জাত-বিচার করেন না। তাই কালিদাসের কাব্যে কদম্ববনের একশ্রেণীতে দাড়িয়ে শুামজল্লুবনাস্তও আষাঢ়ের অভ্যর্থনাভার নিল। কাব্যে সৌভাগ্যক্রমে কোনো শুভক্ষণে রসজ্ঞ দেবতাদের বিচারে মদনের তুণে আমের মুকুল স্থান পেয়েছে। বোধ করি অমৃতে অনটন ঘটে না বলেই আমের প্রতি দেবতাদের আহারে লোভ নেই। স্বচ্ছ জলের তলে রুইমাছের সস্তরণলীলা আকাশে পাখি ওড়ার চেয়ে কম সুন্দর নয়, কিন্তু রুইমাছের নাম করব মাত্র পাঠকের রসবোধ পাছে নিঃশেষে রসনার দিকেই উচ্ছসিত হয়ে ওঠে এই ভয়ে ছন্দোবন্ধনে বেঁধে ওকে কাব্যের তীরে উত্তীর্ণ করা দুঃসাধ্য হল । সকল ব্যবহারের অতীত বলেই মকর বেঁচে গেছে— ওকে বাহনভূক্ত করে নিতে দেবী জাহ্নবীর গৌরবহানি হল না, নির্বাচনের সময় রুই-কাংলাটার নাম মুখে বেধে গেল। তার পিঠে স্থানাভাব বা পাখনায় জোর কম বলেই এমনটা ঘটেছে তা তো মানতে পারি নে। কেননা লক্ষ্মী সরস্বতী যখন পদ্মকে আসন বলে বেছে নিলেন, তার দৌর্বল্য বা অপ্রশস্ততার কথা চিন্তাও করেন নি। এইখানে চিত্রকলার সুবিধা আছে। কচুগাছ আঁকতে রূপকারের তুলিতে সংকোচ নেই। কিন্তু বনশোভাসজ্জায কাব্যে কচুগাছের নাম করা মুশকিল। আমি নিজে জাত-মান কবির দলে নই, তবু বাশবনের কথা পাড়তে গেলে অনেক সময় বেণুবন বলে সামলে নিতে হয়। শব্দের সঙ্গে নিত্যব্যবহারগত নানা ভাব জড়িয়ে থাকে। তাই কাব্যে