পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


\সাহিত্যমঁ। פף কুক্‌চিফুলের নাম করবার বেল কিছু ইতস্তত করেছি, কিন্তু কুক্‌চিফুল আঁকতে চিত্রকরের তুলির মানহানি হয় না। এইখানে এ কথাটা বলা দরকার, যুরোপীয় কবিদের মনে শব্দ সম্বন্ধে শুচিতার সংস্কার এত প্রবল নয়। নামের চেয়ে বস্তুটা ভঁাদের কাছে অনেক বেশি, তাই কাব্যে নামব্যবহার সম্বন্ধে তাদের লেখনীতে আমাদের চেয়ে বাধা কম । যা হোক, এটা দেখা গেছে যে, যে জিনিসটাকে কাজে খাটাই তাকে যথার্থ করে দেখি নে। প্রয়োজনের ছায়াতে সে রাহুগ্ৰস্ত হয়। রান্নাঘরে ভাড়ারঘরে গৃহস্থের নিত্য প্রয়োজন, কিন্তু বিশ্বজনের কাছে গৃহস্থ ঐ দুটো ঘর গোপন করে রাখে। বৈঠকখানা না হলেও চলে, তবু সেই ঘরেই যত সাজসজ্জা, যত মালমসলা ; গৃহকর্তা সেই ঘরে ছবি টাঙিয়ে কাপেট পেতে তার উপরে নিজের সাধ্যমত সর্বকালের ছাপ মেরে দিতে চায়। সেই ঘরটিকে সে বিশেষভাবে বাছাই করেছে, তার দ্বারাই সে সকলের কাছে পরিচিত হতে চায় আপন ব্যক্তিগত মহিমায়। সে যে খায় বা খাদ্যসঞ্চয় করে, এটাতে তার ব্যক্তিস্বরূপের সার্থকতা নেই। তার একটি বিশিষ্টতার গৌরব আছে, এই কথাটি বৈঠকখানা দিয়েই জানাতে পারে। তাই বৈঠকখানা অলংকৃত। জীবধর্মে মানুষের সঙ্গে পশুর প্রভেদ নেই। আত্মরক্ষা ও বংশরক্ষার প্রবৃত্তি তাদের উভয়ের প্রকৃতিতেই প্রবল। এই প্রবৃত্তিতে মচুন্যত্বের সার্থকতা মানুষ উপলব্ধি করে না । তাই ভোজনের ইচ্ছা ও মুখ যতই প্রবল হোক, ব্যাপক হোক, সাহিত্যে ও অন্য কলায় ব্যঙ্গের ভাবে ছাড়া শ্রদ্ধার ভাবে তাকে স্বীকার করা হয় নি। মাহষের আহারের ইচ্ছা প্রবল সত্য, কিন্তু সার্থক সত্য নয়। পেট-ভরানো ব্যাপারটা মানুষ তার কলালোকের অমরাবতীতে স্থান দেয় নি। স্ত্রী-পুরুষের মিলন আহার-ব্যাপারের উপরের কোঠায়, কেননা