পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


երՎ সাহিত্যের পথে ধর্ম ; সাহিত্যের বাণী স্বয়ংবরা । বিজ্ঞানের নির্বিচার কৌতুহল সাহিত্যের সেই বরণ ক’রে নেবার স্বভাবকে পরাস্ত করতে উদ্যত। আজকালকার যুরোপীয সাহিত্যে যৌনমিলনের দৈহিকতা নিযে খুব যে একটা উপদ্রব চলছে সেটার প্রধান প্রেরণা বৈজ্ঞানিক কৌতুহল, রেসটোরেশন-যুগে সেটা ছিল লালসা। কিন্তু সেই যুগের লালসার উত্তেজনাও যেমন সাহিত্যের রাজাটকা চিরদিনের মতো পায নি, আজকালকার দিনের বৈজ্ঞানিক কৌতুহলের ঔৎসুক্যও সাহিত্যে চিরকাল টিকতে পারে না । একদিন আমাদের দেশে নাগরিকতা যখন খুব তপ্ত ছিল তখন ভারতচন্দ্রের বিদ্যাসুন্দরের যথেষ্ট আদর দেখেছি। মদনমোহন তর্কালংকারের মধ্যেও সে বাজ ছিল । তখনকার দিনের নাগরিকসাহিত্যে এ জিনিসটার ছড়াছড়ি দেখা গেছে। যারা এই নেশায বুদ হয়ে ছিল তারা মনে করতে পারত না যে, সেদিনকার সাহিত্যের রসাকাঠের এই ধোযাটাই প্রধান ও স্থায়ী জিনিস নয, তার আগুনের শিখাটাই আসল । কিন্তু আজ দেখা গেল, সেদিনকার সাহিত্যের গাযে যে কাদার ছাপ পড়েছিল সেটা তার চামড়ার রঙ নয, কালস্রোতের ধারায আজ তার চিহ্ন নেই। মনে তো আছে, যেদিন ঈশ্বরগুপ্ত পাঠার উপর কবিতা লিখেছিলেন সেদিন নুতন ইংরেজরাজের এই হঠাৎ-শহর কলকাতার বাবুমহলে কিরকম তার প্রশংসাধ্বনি উঠেছে। আজকের দিনে পাঠক তাকে কাব্যের পংক্তিতে স্বভাবতই স্থান দেবে না ; পেটুকতার নীতিবিরুদ্ধ অসংযম বিচার ক’রে নয, ভোজনলালসার চরম মূল্য তার কাছে নেই বলেই । সম্প্রতি আমাদের সাহিত্যে বিদেশের আমদানি যে একটা বে-আক্রতা এসেছে সেটাকেও এখানকার কেউ কেউ মনে করছেন নিত্যপদার্থ ; ভুলে যান, যা নিত্য তা অতীতকে সম্পূর্ণ প্রতিবাদ করে না। মানুষের রসবোধে যে আক্ৰ আছে সেইটেই নিত্য, যে আভিজাত্য আছে রসের