পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ե(, সাহিত্যে নবত্ব সকল দেশের সাহিত্যেরই প্রধান কাজ হচ্ছে, শোনবার লোকের আসনটি বড়ো করে তোলা, যেখান থেকে দাবি আসে। নইলে লেখবার লোকের শক্তি খাটো হয়ে যায়। যে-সব সাহিত্য বনেদি তারা বহু কালের আর বহু মানুষের কানে কথা কয়েছে। তাদের কথা দিন-আনি-দিনখাই তহবিলের ওজনে নয। বনেদি সাহিত্যে সেই শোনবার কান তৈরি করে তোলে। যে সমাজে অনেক পাঠকের সেই শোনবার কান তৈরি হযেছে সে সমাজে বড়ো করে লেখবার শক্তি অনেক লেখকের মধ্যে আপনিই দেখা দেয়, কেবলমাত্র খুচরো মালের ব্যাবসা সেখানে চলে না। সেখানকার বড়ো মহাজনদের কারবার আধা নিযে নয়, পুরো নিয়ে। তাদের আধা’র ব্যাপারী বলব না, সুতরাং জাহাজের খবর তাদের মেলে । বাংলাদেশে প্রথম ইংরেজি শিক্ষার যোগে এমন সাহিত্যের সঙ্গে আমাদের চেনাশোনা হল যার স্থান বিপুল দেশের ও নিরবধি কালের । সে সাহিত্যের বলবার বিষয়টা যতই বিদেশী হোক-না, তার বলবার আদর্শটা সৰ্বকালীন ও সর্বজনীন। হোমরের মহাকাব্যের কাহিনীট গ্রীক, কিন্তু তার মধ্যে কাব্যরচনার যে আদর্শটা আছে যেহেতু তা সার্বভৌমিক এইজন্যেই সাহিত্যপ্রিয বাঙালিও সেই গ্রীক কাব্য পড়ে তার রস পায । আপেল ফল আমাদের দেশের অনেক লোকের পক্ষেই অপরিচিত, ওটা সর্বাংশেই বিদেশী ; কিন্তু ওর মধ্যে যে ফলত্ব আছে সেটাকে আমাদের অত্যন্ত স্বাদেশিক রসনাও মুহূর্তের মধ্যে সাদরে স্বীকার ক’রে নিতে বাধা পায় না। শরৎ চাটুজের গল্পট বাঙালির, কিন্তু গল্প বলাটা একান্ত বাঙালির নয় ; সেইজন্তে র্তার গল্পসাহিত্যের জগন্নাথক্ষেত্রে জাত-বিচারের কথা উঠতেই পারে না । গল্প-বলার সর্বজনীন