পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যে নবত্ব ԵԳ সকল দেশের সাহিত্যেই দিন একটানা চলে না ; মধ্যাহ্ন পেরিয়ে গেলেই বেলা পড়ে আসতে থাকে। আলো যখন ক্ষীণ হয়ে আসে তখনই অস্তুতের প্রাদুর্ভাব হয। অন্ধকারের কালট হচ্ছে বিকৃতির কাল। তখন অলিতে-গলিতে আমরা কন্ধকাটাকে দেখতে পাই, আর তার কুৎসিত কল্পনাটাকেই একান্ত করে তুলি। বস্তুত সাহিত্যের সাযাহ্নে কল্পনা ক্লান্ত হযে আসে বলেই তাকে বিকৃতিতে পেযে বসে, কেননা যা-কিছু সহজ তাতে তার আর সানায না। যে অক্লিষ্ট শক্তি থাকলে আনন্দসভোগ স্বভাবতই সম্ভবপর সেই শক্তির ক্ষীণতায়ু উত্তেজনার প্রযোজন ঘটে। তখন মাংলামিকেই পৌরুষ বলে মনে হয। প্রকৃতিস্থকেই মাতাল অবজ্ঞা করে ; তার সংযমকে হয মনে করে ভান ন্য মনে করে দুর্বলতা । বড়ো সাহিত্যের একটা গুণ হচ্ছে অ-পুর্বতা, ওরিজিন্তালিটি। সাহিত্য যখন অক্লান্ত শক্তিমান থাকে তখন সে চিরন্তনকেই নূতন করে প্রকাশ করতে পারে। এই তার কাজ। এ’কেই বলে ওরিজিন্তালিটি । যখনই সে আজগবিকে নিযে গলা ভেঙে, মুখ লাল ক’রে, কপালের শিরগুলোকে ফুলিযে তুলে ওরিজিন্তাল হতে চেষ্টা করে তখনই বোঝা যায, শেষ দশায এসেছে। জল যাদের ফুরিযেছে তাদের পক্ষে আছে পাক। তারা বলে, সাহিত্যধারায নৌকো-চলাচলটা অত্যন্ত সেকেলে ; আধুনিক উদ্ভাবনা হচ্ছে পাকের মাতুনি— এতে মাঝিগিরির দরকার নেই— এটা তলিযেযাওযা রিযালিটি। ভাষাটাকে বেঁকিযে চুরিযে, অর্থের বিপর্যয ঘটিয়ে, ভাবগুলোকে স্থানে অস্থানে ডিগবাজি খেলিযে, পাঠকের মনকে পদে পদে ঠেলা মেরে, চমক লাগিযে দেওযাই সাহিত্যের চরম উৎকর্ষ। চরম সন্দেহ নেই। সেই চরমের নমুনা যুরোপীয সাহিত্যের ডাডায়িজ ম। এর একটিমাত্র কারণ হচ্ছে এই, আলাপের সহজ শক্তি যখন চলে যায সেই বিকারের দশায প্রলাপের শক্তি বেড়ে ওঠে। বাইরের দিক থেকে