পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


են সাহিত্যের পথে বিচার করতে গেলে প্রলাপের জোর আলাপের চেয়ে অনেক বেশি এ কথা মানতেই হয়। কিন্তু তা নিয়ে শঙ্কা না করে লোকে যখন গর্ব করতে থাকে তখনই বুঝি, সর্বনাশ হল বলে। যুরোপের সাহিত্যে চিত্রকলায় এই-যে বিহ্বলতা ক্ষণে ক্ষণে ও স্থানে স্বানে বীভৎস হযে উঠছে এটা হয়তো একদিন কেটে যাবে, যেমন করে বলিষ্ঠ লোক মারাত্মক ব্যামোকেও কাটিয়ে ওঠে। আমার ভয়, দুর্বলকে যখন ছোয়াচ লাগবে তখন তার অন্যান্ত নানা দুৰ্গতির মধ্যে এই আরএকটা উপদ্রবের বোঝা হয়তো দুঃসহ হয়ে উঠবে। ভাবনার বিশেষ কারণ হচ্ছে এই যে, আমাদের শাস্ত্রমানা ধাত। এইরকম মানুষরা যখন আচার মানে তখন যেমন গুরুর মুখের দিকে চেয়ে মানে, যখন আচার ভাঙে তখনও গুরুর মুখের দিকে চেয়েই ভাঙে। রাশিয়া বা আর-কোনো পশ্চিমদিগন্তে যদি শুরু নবীন বেশে দেখা দেন, লাল টুপি পরে বা যে-কোনো উগ্র সাজেই হোক, তবে আমাদের দেশের ইস্কুল-মাস্টাররা অভিভূত হযে পড়েন। শাশুড়ির শাসনে যার চামড়া শক্ত হয়েছে সেই বউ শাশুড়ি হষে উঠে নিজের বধূর পরে শাসন জারি করে যেমন আনন্দ পান এরাও তেমনি স্বদেশের যে-সব নিরীহ মানুষকে নিজেদের স্কুলবয় বলে ভাবতে চিরদিন অভ্যন্ত তাদের উপর উপরওয়াল রাশিয়ান হেড মাস্টারদের কড়া বিধান জারি করে পদোন্নতির গৌরব কামনা করেন। সেই হেডমাস্টারের গদগদ ভাষার অর্থ কী ও তার কারণ কী সে কথা বিচার করবার অভ্যাস নেই, কেননা সেই হল আধুনিক কালের আগুবাক্য। আমাদের দেশের নবীন লেখকদের সঙ্গে আমার পরিচয় পাকা হবার মতো যথেষ্ট সময় পাই নি, এ কথা আমাকে মানতেই হবে। মাঝে মাঝে ক্ষণকালের দেখাশোনা হয়েছে, তাতে বার বার তাদের বলিষ্ঠ কল্পনা ও ভাষা সম্বন্ধে সাহসিক অধ্যবসায় দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। যথার্থ