পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বস্তুত মন নাস্তিত্বের দিকে যতই যায ততই তার দুঃখ । দুঃখের তীব্র উপলব্ধিও আনন্দকর, কেননা সেটা নিবিড় অস্মিতাস্বচক ; কেবল অনিষ্টের আশঙ্কা এসে বাধা দেয। সে আশঙ্কা না থাকলে দুঃখকে বলতুম সুন্দর। দুঃখে আমাদের স্পষ্ট করে তোলে, আপনার কাছে আপনাকে ঝাপসা থাকতে দেয না । গভীর দুঃখ ভূম, ট্র্যাজেডির মধ্যে সেই ভূমা আছে, সেই ভূমৈব মুখম্। মানুষ বাস্তব জগতে ভ্য দুঃখ বিপদকে সর্বতোভাবে বর্জনীয বলে জানে, অথচ তার আত্ম-অভিজ্ঞতাকে প্রবল এবং বহুল করবার জন্তো এদের না পেলে তার স্বভাব বঞ্চিত হয - আপন স্বভাবগত এই চাওযাটাকে মানুষ সাহিত্যে আর্টে উপভোগ করছে। একে বলা যায লীলা, কল্পনায আপনার অবিমিশ্র উপলব্ধি । বামলীলায মানুষ যোগ দিতে যায খুশি হযে, লীলা যদি না হত তবে বুক যেত ফেটে । এই কথালি যেদিন প্রথম স্পষ্ট করে মনে এল সেদিন কবি কীটসqz ztfå XIVR •TUĦ · Truth is beauty, beauty truth. অর্থাৎ যে সত্যকে আমরা ‘হৃদ মনীষা মনসা’ উপলব্ধি করি তাই সুন্দর । তাতেই আমরা আপনাকে পাই । এই কথাই যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন যে, যে-কোনো জিনিস আমার প্রিয তার মধ্যে আমি আপনাকেই সত্য করে পাই বলেই তা প্রিয, তাই সুন্দর । মানুষ আপনার এই প্রিযের ক্ষেত্ৰকে, অর্থাৎ আপন সুস্পষ্ট উপলব্ধির ক্ষেত্রকে সাহিত্যে প্রতিদিন বিস্তীর্ণ করছে। তাব বাধাহীন বিচিত্র বৃহৎ লীলার জগৎ সাহিত্যে । স্বষ্টিকর্তাকে আমাদেব শাস্ত্রে বলেছে লীলাময। অর্থাৎ তিনি আপনার রসবিচিত্র পরিচয পাচ্ছেন আপন স্থষ্টিতে। মানুষও আপনার মধ্যে থেকে আপনাকে স্বষ্টি করতে করতে নানা ভাবে, নানা রসে আপনাকে পাচ্ছে । মানুষও লীলাময। মানুষের সাহিত্যে আর্টে সেই S