পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৯০ সাহিত্যের পথে যায় নিজেদের জীবনযাত্রায় "দরিদ্রনারায়ণ’-এর ভোগের ব্যবস্থা বিশেষ কিছুই রাখেন নি— ভালোরকম উপার্জনও করেন, মুখে স্বচ্ছন্দেও থাকেন দেশের দারিদ্র্যকে এর কেবল নব্যসাহিত্যের নূতনত্বের কাজ বাড়াবার জন্যে সর্বদাই ঝাল-মসলার মতো ব্যবহার করেন। এই ভাবুকতার কারি-পাউডরের যোগে একটা কৃত্রিম শস্ত সাহিত্যের স্বষ্টি হয়ে উঠছে। এই উপায়ে বিনা প্রতিভায় এবং অল্প শক্তিতেই বাহবা পাওয়া যায়, এইজন্যেই অপটু লেখকের পক্ষে এ একটা মস্ত প্রলোভন এবং অবিচারক পাঠকের পক্ষে একটা সাহিত্যিক অপথ্য। সাহিত্যে লালসা ইতিপূর্বে স্থান পায় নি বা এর পরে স্থান পাবে না, এমন কথা সত্যের খাতিরে বলতে পারি নে। কিন্তু ও জিনিসটা সাহিত্যের পক্ষে বিপদজনক। বলা বাহুল্য, সামাজিক বিপদের কথাটা আমি তুলছি নে। বিপদের কারণটা হচ্ছে, ওটা অত্যন্ত শস্ত– ধুলোর উপরে শুষে পড়ার মতোই সহজসাধ্য। অর্থাৎ ধূলোয যার লুটোতে সংকোচ নেই তার পক্ষে একেবারেই সহজ। পাঠকের মনে এই আদিম প্রবৃত্তির উত্তেজনা সঞ্চার করা অতি অল্পেই হয়। এইজন্তেই পাঠকসমাজে এমন একটা কথা যদি ওঠে যে, সাহিত্যে লালসাকে একান্ত উন্মথিত করাটাই আধুনিক যুগের একটা মস্ত ওস্তাদি, তা হলে এজন্যে বিশেষ শক্তিমান লেখকের দরকার হবে না— সাহস দেখিযে বাহাদুরি করবার নেশা যাদের লাগবে তারা এতে অতি সহজেই মেতে উঠতে পারবে। সাহসটা সমাজেই কী, সাহিত্যেই কী, ভালো জিনিস। কিন্তু সাহসের মধ্যেও শ্রেণীবিচার মূল্যবিচার আছে। কোনো-কিছুকে কেযার করি নে বলেই যে সাহস তার চেযে বড়ো জিনিস হচ্ছে একটাকিছুকে কেযার করি বলেই যে সাহস। মানুষের শরীর-ঘেঁষা যে-সব সংস্কার জীবস্থষ্টির ইতিহাসে সেইগুলো অনেক পুরোনো, প্রথম অধ্যায় থেকেই তাদের আরম্ভ। একটু ছুতে-না-ছুতেই তার ঝনঝ করে