পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


St সাহিত্যের পথে সাহিত্যে ভালো-লাগা মন্দ-লাগা হল শেষ কথা । বিজ্ঞানে সত্যমিথ্যার বিচারই শেষ বিচার। এই কারণে বিচারকের ব্যক্তিগত সংস্কারের উপরে বৈজ্ঞানিকের চরম আপিল আছে প্রমাণে। কিন্তু ভালোমন্দ-লাগাটা রুচি নিযে, এর উপরে আর-কোনো আপিল অযোগ্যতম লোকও অস্বীকার করতে পারে । এই কারণে জগতে সকলের চেযে অরক্ষিত অসহায জীব হল সাহিত্যরচযিতা। মৃদুস্বভাব হরিণ পালিযে বাচে, কিন্তু কবি ধরা পডে ছাপার অক্ষরের কালো জালটায । এ নিযে আক্ষেপ করে লাভ নেই, নিজের অনিবার্য কর্মফলের উপরে জোর খাটে না । রুচির মার যখন খাই তখন চুপ করে সহ করাই ভালো, কেননা সাহিত্যরচযিতার ভাগ্যচক্রের মধ্যেই রুচির কুগ্রহ-সুগ্রহের চিরনির্দিষ্ট স্থান। কিন্তু বাইরের থেকে যখন আসে উল্কাবৃষ্টি, সম্মার্জনী হাতে আসে ধূমকেতু, আসে উপগ্রহের উপসর্গ, তখন মাথা চাপড়ে বলি, এ যে মারের উপরি-পাওনা। বাংলাসাহিত্যের অন্তঃপুরে শ্রেণীর যাচনদার বাহির হতে ঢুকে পড়েছে, কেউ তাদের দ্বাররোধ করবার নেই। বাউল-কবি দুঃখ করে বলেছে, ফুলের বনে জহুরী ঢুকেছে, সে পদ্মফুলকে নিকষে ঘষে ঘষে বেড়ায, ফুলকে দেয লজ্জা । আমরা সহজেই ভুলি যে, জাতিনির্ণয বিজ্ঞানে, জাতির বিবরণ ইতিহাসে, কিন্তু সাহিত্যে জাতিবিচার নেই, সেখানে আর-সমস্তই ভুলে ব্যক্তির প্রাধান্ত স্বীকার করে নিতে হবে। অমুক কুলীন ব্রাহ্মণ, এই পরিচযেই অতি অযোগ্য মানুষও ঘরে ঘরে বরমাল্য লুটে বেডাতে পারে, কিন্তু তাতে ব্যক্তি হিসাবে তার যোগ্যতা সপ্রমাণ হয না । লোকটা কুলীন কি না কুলপঞ্জিকা দেখলেই সকলেই সেটা বলতে পারে, অথচ ব্যক্তিগত যোগ্যতা নির্ণয করতে যে সমজদারের প্রযোজন তাকে খুঁজে মেলা ভার। এইজন্তে সমাজে সাধারণত শ্রেণীর কাঠামোতেই মানুষকে বিভক্ত করে ; জাতিকুলের মর্যাদা দেওয, ধনের মর্যাদা দেওষা সহজ।