পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যবিচার SS কারকে আত্মশক্তির দ্বারাই প্রমাণ করতে হয়, তাকে স্বকীয় করে নিজের প্রাণের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া চাই। আমাদের স্বদেশাহভূতি, আমাদের সাহিত্য যুরোপের প্রভাবে উজ্জীবিত, বাংলাদেশের পক্ষে এটা গৌরবের কথা। শরৎ চাটুজ্জের গল্প, বেতালপঞ্চবিংশতি হাতেম-তাই গোলেবকাওয়ালি অথবা কাদম্বরী-বাসবদত্তার মতে যে হয নি, হয়েছে য়ুরোপীয় কথাসাহিত্যের ছাদে, তাতে করে অবাঙালিত্ব বা রজোগুণ প্রমাণ হয় না, তাতে প্রমাণ হয প্রতিভার প্রাণবত্তা । বাতাসে সত্যের যে প্রভাব ভেসে বেড়ায তা দূরের থেকেই আমুক বা নিকটের থেকে, তাকে সর্বাগ্রে অনুভব করে এবং স্বীকার করে প্রতিভাসম্পন্ন চিত্ত ; যারা নিম্প্রতিভ তারাই সেটাকে ঠেকাতে চাষ, এবং যেহেতু তারা দলে ভারী এবং তাদের অসাড়তা ঘুচতে অনেক দেরি হয় এই কারণেই প্রতিভার ভাগ্যে দীর্ঘকাল দুঃখভোগ থাকে। তাই বলি, সাহিত্যবিচারকালে বিদেশী প্রভাবের বা বিদেশী প্রকৃতির খোটা দিযে বর্ণসংকরতা বা ব্রাত্যতার তর্ক যেন না তোলা হয । আরও একটা শ্রেণীবিচারের কথা এই উপলক্ষ্যে আমার মনে পড়ল । মনে পড়বার কারণ এই যে, কিছুদিন পূর্বেই আমার যোগাযোগ উপদ্যাসের কুমুর চরিত্র সম্বন্ধে আলোচনা করে কোনো লেখিকা আমাকে পত্র লিখেছেন। তাতে বুঝতে পারা গেল, সাহিত্যে নারীকেও একটি স্বতন্ত্র শ্রেণীতে দাড় করিযে দেখবার একটা উত্তেজনা সম্প্রতি প্রবল হয়ে উঠেছে। যেমন আজকাল তরুণবয়স্কের দল হঠাৎ ব্যক্তির সীমা অতিক্রম করে দলপতিদের চাটক্তির চোটে বিনামূল্যে একটা অত্যন্ত উচ্চ এবং বিশেষ শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হযে গেছে, নারীদেরও সেই দশা। সাহিত্যের নারীতে নারীত্ব-নামক একটা শ্রেণীগত সাধারণ গুণ আছে কি না, এই তর্কট সাহিত্যবিচারে প্রাধান্তলাভের চেষ্টা করছে। এরই ফলে কুমু ব্যক্তিগতভাবে সম্পূর্ণ কুমু কি না, এই সাহিত্যসংগত প্রশ্নটা কারও কারও