পাতা:সাহিত্য-সাধক-চরিতমালা প্রথম খণ্ড.pdf/১৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার جينية পার্থক্য বাংলা দেশে সৰ্ব্বপ্রথম তিনি উপলব্ধি করিয়াছিলেন, তিনিই বাংলা-গদ্যের সর্বপ্রথম কনশাস আর্টিস্ট (conscious artist) । বাকী যাহারা লিখিয়াছেন, তাহাদিগকে ভিন্নধৰ্ম্মী নানা শব্দ জোড় দিয়া অর্থপূর্ণ বাক্য গঠনে প্রাণান্তকর প্রয়াস করিতে হইয়াছে ; তাহাদের অসমঞ্জস ভাষার মধ্যেই এই প্রয়াসের ইতিষ্ঠাস বৰ্ত্তমান । বিদ্যালঙ্কার সংস্কৃত ভাযায় এবং বেদান্ত, কাব্য, অলঙ্কার প্রভৃতি বিবিধ শাস্ত্রে এমনই পারঙ্গম ছিলেন যে, সম্পূর্ণ নূতন ভাষায় বিভিন্ন স্টাইলের কৌশল ও সহজ পারদর্শিতা তিনি অক্লেশে প্রদর্শন করিয়াছেন ; পাঠকের তাতাব অসংখ্য নিদর্শন মৃত্যুঞ্জয়ের গ্রন্থগুলির মধ্যেই পাইবেন । “শিল্পী মৃতুঞ্জয়” শিরোনামায় আমরা মৃত্যুঞ্জয়ের বাংলা গদ্যের সংক্ষেপ আলোচনা করিয়াছি ; সেই অধ্যায় পাঠ করিলে বাংলাগদ্যের প্রথম শিল্পী মৃত্যুঞ্জয় সম্বন্ধে আমরা যাহা বলিয়াছি, সে সম্বন্ধে কাহার ৪ কোনও সংশয় থাকিবে না ; আর একটি বিষয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের কৃতিত্ব আমরা ভুলিয়াছি। সহমরণ-প্রথা শাস্ত্রীয় কি না, ইহা লইয়। যখন প্ৰবৰ্ত্তক ও নিষেধক, এই উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের শার শেষ ছিল না, তাহারও বৎসরাধিক কাল পূৰ্ব্বে মৃত্যুঞ্জয়ের মত এক জন গোড়া ব্রাহ্মণপণ্ডিত মনের অকৃত্রিম উদারতায় ১৮১৭ খ্ৰীষ্টাব্দে সদর দেওয়ানী আদালতের প্রধান বিচারপতির অনুরোধে সংস্কৃত ভাষায় যে মত ব্যক্ত করিয়াছিলেন, নিষেধকেরা তাহাই মূল প্রমাণস্বরূপ মান্ত করিয়াছিলেন । রামমোহন তাহার