পাতা:সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস (নবপত্র সংস্করণ) প্রথম খন্ড.pdf/১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

তিন ঐ লেনে আমার বাসা হইতে আমি রজনীবাবুকে মাঝে মাঝে দেখিতে পাইতাম। বঙ্গবাসী কাগজে তাহার ঐতিহাসিক প্রবন্ধ যাহা কিছু, বাহির হইত যত্নের সহিত তাহা পাঠ করিতাম। এই সকল প্রবন্ধ সংগৃহীত হইয়া "আর্যকীর্তি" প্রথম খণ্ড বাহির হইয়াছে শুনিবামাত্র একখানা কিনিয়া আনিয়া পাঠ করি। রাজপুত, শিখ ও মারাঠার কাহিনী রজনীবাবুর স্বাভাবিক ভাষায় বর্ণিত হইয়া মনের মধ্যে নানা ভাবের উদ্দীপনা করিত। প্রেসিডেন্সী কলেজে আমার পাঠদ্দশার শেষ সময়ে রজনীবাবুর সহিত আমার সাক্ষাৎ সব পরিচয় ঘটে। অখিল মিস্ত্রীর লেনে পরলােকগত গিরিজাপ্রসন্ন রায় চৌধুরীর বাসায় তাঁহার সহিত আমার প্রথম পরিচয় হয়। তাহার রচনা পাঠ করিয়া বাল্যাবধি তাঁহার নামে আকৃষ্ট হইয়াছিলাম। পরিচয়ের পর তাঁহার চরিত্র-সৌন্দর্যে মুগ্ধ হইয়া পড়িয়াছিলাম। সেই চরিত্রের সৌন্দর্যে ও ঔদার্যে এই সভাস্থলের অনেকেই মধ্যে ছিলেন। তাহার সম্বন্ধে আমার বাগবাহুল্যের কোনাে প্রয়ােজন নাই। রিপন কলেজে কর্ম গ্রহণ করিয়া আমি রজনীবাবুর প্রতিবেশী ছিলাম। পরিচয় ক্রমশঃ বন্ধুতায় এবং বন্ধুতা ক্রমশঃ আত্মীয়তায় ঘনীভূত হইয়াছিল। তাঁহার মধুর প্রকৃতির কোনাে অংশ আমার অজ্ঞাত ছিল না। তাহার সহিত অবস্থানই আমার বিদেশপ্রবাসের সব প্রধান আনন্দ ছিল। প্রায় দুই বৎসর হইল, তাহার অন্তিম রােগের সঞ্চার হয়, অন্ততঃ তাহার মনের ভিতর ঐরপ আশঙ্কা জন্মিয়াছিল। কিন্তু ঐ রােগের বাহ্য লক্ষণ কিছুই প্রকাশ পায় নাই , স্বাস্থ্যভঙ্গের কোনাে চিহ্নই লক্ষিত হয় নাই, তাহার আশঙ্কা সম্পূর্ণ অমলক বলিয়াই উড়াইয়া দিতাম। তিনিও দুই-একজন নিতান্ত অন্তরঙ্গ বন্ধ ব্যতীত অন্যের নিকট তাহা প্রকাশ করেন নাই। এমন কি তাহার নিজ পরিবার কোনাে ব্যক্তিই এই আশঙ্কার কথা জানিতেন না। কিন্তু তদবধি তিনি স্বাস্থ্যের জন্য কিছ, চিন্তিত হইয়াছিলেন। প্রত্যহ প্রাতঃকালে বেড়াইতে আরম্ভ করিয়াছিলেন, মাঝে মাঝে গঙ্গাস্নান করিতেন। গত শীতকালের অবসানে বাইসাইকেল, অভ্যাসের চেষ্টা করতেন। কচিৎ বা শিয়ালদহ স্টেশনে যাইয়া ওজন লইয়া আসিতেন। এই সময়ে রজনীবাবু তাহার জীবনের কর্তব্য-সকল সম্পণ করিবার জন্য কিছু ব্যগ্র হইয়া পড়িয়াছিলেন। তাহার গহের লাইব্রেরিটির পণতা সাধনের জন্য তিনি অকাতরে পস্তক সংগ্রহে প্রবত্ত হইয়াছিলেন, গত বৎসর পূজার পর গয়াধামে গিয়া। পিতকৃত্য সমাধান করিয়া আসিয়াছিলেন। তাঁহার জীবনের সব প্রধান কার্য সিপাহীয.rধর ইতিহাসখানি শেষ করিবার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করিতেছিলেন। তিনি কথায় কথায় হাসিতে হাসিতে প্রায়ই বলিতেন, পরিবারবর্গের জন্য একটা ব্যবস্থা করিয়া শীঘ্রই কাশীবাসী হইব। বিগত ২রা বৈশাখ তারিখে তিন পরিষদের অপর চারিজন সদস্যের সহিত পরিষদের গহ নিমাণাথ ভূমি প্রার্থনায় কাশীমবাজারের মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী বাহাদরের সমীপে যাত্রা করেন। তৎপবে তাহার হাতে সামান্য একটি ব্রণ হইয়াছিল। আমার সহিত প্রায় প্রত্যহই তাঁহার দেখা হইত। কিন্তু সেই ব্রণের বিষয় আমিও জানিতাম না। কাশীমবাজার হইতে ফিরিয়া আসিলে, আরও