পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


খুদা মালুম । সিমার বললে দোষ, নাকি না বললে দোষ বুঝতে পারছি না। সুখবাস বাড়ি ফেরে। ফিরেই শুনতে পায় তার বিয়ের কথা চলছে। বাপ-চাচারা আসর করে আলোচনা চালাচ্ছে । মগরাহাটের মৌলবী গিয়াসজীর মেয়ে জাহেদা সেই বিয়ের কনে । গিয়াসজী মক্তবের মৌলবী এখন । ভদ্রলোক বিপত্নীক । একমাত্ৰ সন্তান জাহেদাকে সঙ্গে ক’রে পাঁচ বছর আগে তিনি সুখডহরি আসেন । সঙ্গে আসে ১১/১২ বছরের অনাথ দরিদ্র ভাইপো ঈশা । ঐ মাদ্রাসারই তালবিলিম । থাকে পাশের গাঁ সুখানটি । ইব্রাহিম আনসারীর বাড়ি । জায়গীর । সেখান থেকে পায়ে হেঁটে মাদ্রাসায় আসে । যাই হােক। খুব বড় পাশ-করা মৌলবী গিয়াসজী নয়। কিন্তু পড়ানোর সুনাম যথেষ্ট । সমস্যা হয়েছে তাঁকে নিয়েই । মক্তবকে সরকারী মঞ্জুরি পাইয়ে আলিয়া মাদ্রাসায় উন্নীত করানোর একটা গোপন তদারক তদ্বির চলছে। কিছুকাল যাবৎ । মক্তবের যিনি সেক্রেটারি, সইফুল্লা মণ্ডল, তাঁর ইচ্ছে সদ্য বিয়ে হওয়া এবং এফ. এম. পাশ জামাই কুদ্দুস মাদ্রাসায় ঢুকে যাক । তা করতে গেলে গিয়াসজীকে সরিয়ে দিয়ে সেই শূন্যপদে কুদ্দুসকে বসাতে হবে । গিয়াসজী অবশ্য এফ. এম. পাশ করা মৌলবীই । কুদ্দুস এখনো পড়াশুনা করছে, আরো বড় ডিপ্লোমা সে শিগগির যোগাড় করবে ইনশাল্লাহ। সেকথা সেক্রেটারি পাঁচ মুখে প্রচার করে যাচ্ছে দীর্ঘদিন । তাছাড়া কুদ্দুস বি. এ. পার্টওয়া, পাশ করে উত্তর প্রদেশে আরবী দীনিয়াতী শিক্ষা করতে গিয়েছিল । গিয়াসঙ্গী ম্যাট্রিক পাশ করেননি । অতএব কুদ্দুসকেই কমিটির রেজলিউশন করিয়ে শিক্ষকের পদে নিয়োগ করা সমীচীন। মাদ্রাসার বয়স নয় বছর । পাঁচ বছর যাবত সামান্য বেতনে (জনসাধারণের কাছে সংগৃহীত অর্থ থেকে দেয়) গিয়াসজী মাদ্রাসা চালাচ্ছেন। সংগঠক মৌলবী তিনি, তাঁকে বাদ দিয়ে ধর্মস্থান না-পাক হয় নাকি ? তাতে যদি মাদ্রাসা মঞ্জুরি না পায়, দেশের লোক যেমন এতদিন টাকা পয়সা গম ধান পাট দিয়ে মাদ্রাসা চালিয়ে আসছে, তাই চালাবে । মক্তব। যদি মক্তবই থাকে, মাদ্রাসা না হয়, তবু ভালো । গিয়াসজীকে বাদ দেওয়া চলবে না । দুই বিপরীত নীতি চচার ফলে জনগণ দু'ভাগ হয়ে গিয়েছে। কুন্দুসের নিয়োগ যে মাদ্রাসার উন্নতির কতবড় সহায়ক একপক্ষ তা কিছুতেই বুঝতে চাইছে না। তারা গিয়াসজীকে ভালোবেসে ফেলেছে। নবীর ঘরে স্বজন পোষণের চালিয়াতি স্বার্থপরতা লোকে বুঝে ফেলেছে বটে, কিন্তু সেক্রেটারির তাঁবেদার গোষ্ঠিও কম জিন্দা নয় । মাদ্রাসার ঘণ্টা বাজানোর পিয়নী চাকরি দেবার লোভ দেখিয়ে সইফুল্লা গাঁয়ের একজন মোল্লাকে কাৎ করেছেন । তার, সেই মোল্লার গুষ্টি খুব বর্ধিষ্ণু আর সতর্ক আর মালদার । কেবল সেই মোল্লা সোভানী খতিবই দরিদ্র । Y R