পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রাবেয়া খাটের মাথার কাছে টেবিলে ছড়ানো বইগুলো হাত দিয়ে গুছিয়ে দ্রুত ঠেলে দিয়ে চায়ের প্লেট রেখে বলল, বেশ হয়েছে ! বিয়ে করলে রাতারাতি, বি-কে একখানা কস্তা-পেড়ে কাপড়ও দিলে না ! বললাম, দু টাকা বাষট্টি পয়সার বিয়েতে কি পয়সার কাপড় দেওয়া যায়, তুমিই বল ? রাবেয়া বললে, কি পয়সার বিয়ে মানুষ তা বুঝবে কী করে ? মানুষের পাওনা, মানুষকে দিতে হবে । বললাম, দুপুব বেলা তুমি বাজার থেকে কিনে নিয়ে এস ! টাকা দিয়ে যাব । -(ों2 यदि ५२म ? -কেন, কলেজ যেতে হবে না ? ? &;65 ,63سس বলেই রাবেয়া দ্রুত গলায় বললে, এই ফুলমতি, যা তো বুকু, সাহেবের জল তুলে দে ! ফুলমতি লজ্জা পাচ্ছিল, তবু যাবার সময় লজ্জার মাথা খেয়েই যেন বলল, একটা কথা বুলতাম সাহেব ! বললাম, বল কী বলবি ? শঙ্কিত হয়ে উঠলাম। ফুলমতি আমায় অবাক করে দিয়ে বলে উঠল, অ্যাদ্দিন এ বুকুমনি, কোথায় ছেল সাহেব, আসমানে ? --কেন ? আসমানে থাকবে কেন ? এ তো মাটিরই দুলালী ! --না সাহেব, মাটিতে হুর থাকেনে, আসমানে থাকে । আল্লা তোমারে এত রূপই দিয়েছে বুবুজান ! ফুলমতির বাক্যি-ঢঙ নকল করে বুবুজান বললোঁ-তা আর দেবে নে ! মনিব-পত্নী কি কখনও অসুন্দর হয় ? বেশ তো কস্তা-পেড়ে শাড়িই তুই পাবি ! হলো তো ! রাবেয়া হো হো করে হাসতে লাগিল । দেখলাম, গত রাত্রির অসুস্থতা তার নেই। রূপ তার সত্যিই প্ৰজ্বলিত হয়ে নবনীর মতো বিগলিত হচ্ছে । ফুলমতি চলে যেতেই রাবেয়া শুধায়, তোমার কলেজ কটায় ? বললাম, সে তো সুদূর এগারোটায় । রাবেয়া বিছানার পাশে বসে বলল-এগারোটা আর সুদূর কোথায়, আটটা বাজতে চলল। যাও স্নান করে এস । আমি ততক্ষণ গুছিয়ে নিই কিছুটা । দুপুরবেলা কুল ঝাড়তে হতো, আজ হবে না। ফেরার সময় বাজার থেকে ঝাড়ুন এনে । না-হয়, আমায় কিছু টাকা দিয়ে যেও, টুকিটাকি অনেক কিছু কিনতে 8tr