পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অনেক মনে মনে । বাড়ি ভাড়া করে আছ, খবর পাই ! শুধালাম, তুমি এখন কী করছি ? বিজনেস ? -হ্যাঁ । বাবা আরো একখানা নতুন বাস কিনলেন । আমি অবশ্য লরিতে থাকি । সেই বোহেমিয়ান ভূতটা এখনো তোমাদের সেই মনকির নকীর ফেরেস্তার মতো ঘাড়ে বসে আছে। শরৎচন্দ্ৰ পড়ে ছেলেবেলায় নষ্ট হয়েছি । তোমরা বলতে না, ভ্যাগাবণ্ড দি গ্রেট ! সে-সুবাদে আমি জগতকে চিনেছি। নেশা কাটে নি । তোমাকে পেয়ে, আজ খুব ভালো হলো । ভেব না, টাকা থাকলেই মানুষ এরকম হয় । জানো আজও আমি বিয়ে করে উঠতে পারলাম না । অনেক কথা আছে তোমার সাথে । ডায়েরীতে তোমার ঠিকানাটা টুকে দাও । ইয়ে মানে লিখে দাও । আস্তে আস্তে দূরত্বটা ঘুচিয়ে দিচ্ছে সোম । বন্ধুর বুকের উত্তাপ পাচ্ছি। এই ওর স্বভাব, মুহুর্তে মানুষকে আপন করে নেয় । খাবার এল । খেতে শুরু করে বললাম, মানিকতলায় থাকি । ওখানে গেলেই যে কেউ আমার বাসা দেখিয়ে দেবে । যেও নিশ্চয় । আমারও অনেক কথা আছে । —কথা থাকারই কথা । কলেজে পড়তাম এক সাথে । স্কুলেও এক সাথে । ছাড়াছাড়ি হলো, সেই কবে যেন । বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে তুমি । না, তারও আগে । কলেজ থেকে ভাগলাম । বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেলাম । তার পর সব ছন্নছাড়া, কে কোন দিক ছিটকে পড়েছি। তুমি কিন্তু জীবনে ঢ়ের উন্নতি করেছ। ভালো লাগছে ভাবতে, তুমি একজন সাহিত্যের অধ্যাপক । খাও ! খােচ্ছ না। কেন ? -খাচ্ছি। তো । এই তো ! বললাম মৃদু হেসে । সোম চশমার কাঁচের ওপর দিয়ে তাকালো । কিছুক্ষণ আমার মুখের ওপর চেয়ে থেকে বললে, তুমি খুব অন্যমনস্ক হয়ে আছ । বাড়িতে কোনো অশাস্তি করেছ নাকি ? বললাম, নিজেকে আড়াল করে, তা একটু হচ্ছে বৈকি ! সোম বললে, সংসারটাই ঐ ! ঝকমারি । খাণ্ডার বউ হলে তো কথাই নেই। প্রফেসর বোলারকে তোমার মনে পড়ে ! কাঁধের কাছে বেরিয়ে থাকত ছেড়া ন্যতার মতো গেঞ্জি, বউ-এর অনাদর স্পষ্ট দেখতে পেতাম । বললাম, না, সে সব কিছু নয়। বউ খুব সতর্ক । সোম হঠাৎ খানিক চুপ করে থেকে শুধালো, তোমার সেই রাবেয়ার খবর কি ? -আমার কাছেই আছে এখন ! -আছে মানে ? চমকালো চন্দন সোম । রাবেয়ার হামিদুলের সাথে বিয়ে t