পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৩৭৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৬০
সিরাজদ্দৌলা।

 “পলাশির যুদ্ধ-কাব্যের” এই সকল কাল্পনিক সিরাজ-কলঙ্ক প্রদর্শন করিয়া কবিবর শ্রীযুক্ত নবীনচন্দ্র সেন মহাশয়ের নিকট তত্ত্বজিজ্ঞাসু হইয়াছিলাম। কোন একজন বঙ্গ-সাহিত্য সমাজে সুপরিচিত বন্ধু দয়া করিয়া লিখিয়া পাঠাইয়াছেন,—“নবীন বাবুর উত্তর এক লাইনও নয়। পলাশির যুদ্ধ-কাব্য, ইতিহাস নয়; আপনাকে ইহাই লিখিতে অনুমতি করিয়াছেন।”[১] নবীন বাবুর ‘পলাশীর যুদ্ধ’ যে ‘ইতিহাস নয়’ তাহা সকলে জানে না! তাঁহার ন্যায় স্বদেশভক্ত কৃতবিদ্য সাহিত্য-সেবক যে সর্ব্বথা স্বকপোলকল্পিত অযথা-কলঙ্কে সিরাজদ্দৌলার আপাদমস্তক কলঙ্কিত করিয়া কাব্যরসের অবতারণা করিবেন, তাহা সহসা ধারণা করিতে সাহস না পাইয়া, অনেকেই তাঁহার ‘পলাশির যুদ্ধ-কাব্যকে’ ইতিহাস বলিয়া গ্রহণ করিয়া থাকেন! অন্যের কথা দূরে থাকুক, সম্প্রতি “সান্যাল, এণ্ড কোম্পানী” পলাশির যুদ্ধ-কাব্যের যে “বিদ্যালয়ের পাঠ্যসংস্করণ’’ প্রকাশিত করিয়াছেন, তাহাতেও ইহাকে ‘ইতিহাস’ বলিয়া পরিচিত ও বিদ্যালয়ে প্রচলিত করিবার জন্য ভূমিকা লিখিত হইয়াছে!![২] “কবির পথ নিষ্কণ্টক” হইলেও ঐতিহাসিক চিত্রচয়নে সর্ব্বথা নিরঙ্কুশ হইতে পারে না। যে হতভাগ্য নরপতি তরুণ জীবনে অন্যায় কৌশলে পিঞ্জরাবদ্ধ

  1. সাহিত্য-সম্পাদক শ্রীযুক্ত সুরেশচন্দ্র সমাজপতি।}}
  2. Not only has a complete poen like this a merit of its own superior to that of mere compilation of fugitive pieces, but as it is also the history of Bengal of the period in verse, the introduction of such a book into our schools will be doubly beneficial to the students, and an encouragement to real talent and literature of Bengal.—Preface.