কুশ, বৎস লব, তোমরা প্রতিদিন, সময়ে সময়ে, সমাহিত হইয়া, ঋষিগণের বাসকুটীরের সম্মুখে, নরপতিগণের পটমণ্ডপমণ্ডলীর পুরোভাগে, পৌরগণ ও জানপদবর্গের আবাসশ্রেণীর সমীপদেশে, এবং সভাভবনের অভিমুখভাগে, মনের অনুরাগে, বীণাসংযোগে রামায়ণের গান করিবে। যদি রাজা, কৌতূহলাক্রান্ত হইয়া, তোমাদিগকে ডাকিয়া পাঠান, এবং তাঁহার সম্মুখে গান করিবার নিমিত্ত অনুরোধ করেন, তৎক্ষণাৎ গান করিতে আরম্ভ করিবে। আর, যত ক্ষণ তাঁহার নিকটে থাকিবে, কোনও প্রকারে ধৃষ্টতা প্রদর্শন বা অশিষ্ট ব্যবহার করিবে না। রাজা সকলের পিতৃস্থানীয়; অতএব, তোমরা তাঁহার প্রতি সম্পূর্ণ পিতৃভক্তিপ্রদর্শন করিবে। যদি, সঙ্গীত; শ্রবণে প্রীত হইয়া, রাজা পুরস্কারস্বরূপ অর্থপ্রদানে উদ্যত হন, লোভবশ হইয়া, কদাচ অর্থগ্রহণ করিবে না: বিনয় ও ভক্তিযোগ সহকারে নিস্পৃহতা দেখাইয়া, অর্থগ্রহণে অসম্মতিপ্রদর্শন করিবে; বলিবে, মহারাজ, আমরা বনবাসী, তপোবনে থাকিয়া, ফল মূল দ্বারা, প্রাণধারণ করি, আমাদর অর্থের প্রয়োজন নাই। আর, যদি রাজা তোমাদের পরিচয়জিজ্ঞাসা করেন, বলিবে, আমরা বাল্মীকির শিষ্য।
এইরূপ আদেশ ও উপদেশ দিয়া, মহর্ষি তুষ্ণীম্ভাব অবলম্বন করিলেন। অনন্তর, তাহারা দুই সহোদরে, তদীয় আদেশ ও উপদেশের অনুবর্ত্তী হইয়া, বীণাসহযোগে, মধুর