সরলা রমণী চিতে ভাবি চিন্তা নাই।
স্বচক্ষে সীতার ভাব দেখিলেও ভাই॥
প্রিয়ার মলিন মুখ দেখিতে না পারি।
এখনি হরিণ শিশু আনিতেছি ধরি॥
সীতা মনস্তুষ্ট কার্যে যদি প্রাণ যায়।
রাম কভু পরাঙ্মুখ না হইবে তাঁয়॥
যাবত হরিণ ধরি নাহি ফিরি আমি।
অতি সতর্কেতে সীতা রক্ষাক’র তুমি॥
অভ্যন্ত রাক্ষস ভয় আছে এ বনেতে।
কোন অত্যাচার যেন না পারে করিতে॥
বারম্বার সাবধান করিয়ে লক্ষ্মণে।
কুরঙ্গ ধরিতে রাম প্রবেশেন বনে॥
অগ্রে অগ্রে স্বর্ণমৃগ দ্রুতবেগে যায়।
শ্রীরাম অমনি তার পিছে পিছে ধায়॥
ধরে ধরে মৃগ রাম ধরিতে না পারে।
ক্ষণে দৃষ্ট, অগোচর হয় সে সত্বরে॥
ক্রমে ক্রমে মৃগ অতি দূর বনে গেল।
নির্ভয় অন্তর রাম, সঙ্গেতে চলিল॥
প্রখর রবির করে ক্লান্ত রঘুবীর।
রাক্ষস বলিয়া মনে করিলেন স্থির॥
সুশাণিত শর এক যুড়ি কোদণ্ডেতে।
নিক্ষেপ করেন রাম রাক্ষস বক্ষেতে॥
“কোথায় লক্ষ্মণ” বলি করিল চীৎকার।
কর্ণেতে প্রবিষ্ট হ’ল অমনি সীতার॥
“রাক্ষস হস্তেতে পড়ি হারাই জীবন।
শীঘ্র আসি মোরে রক্ষা করহ লক্ষ্মণ॥”
বলিতে বলিতে প্রাণ ত্যজিল রাক্ষস।
সহসা রামের অঙ্গ হইল অবশ॥