বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:সীতা-হরণ-পাঁচালী - কৃষ্ণেন্দ্র রায় (১৯২৭).pdf/৩০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৬
সীতাহরণ পাঁচালী


সহস্র সঙ্গিনী সঙ্গে রম্য হর্ম্ম্যোপরে।
থাকিতেন সদা যিনি অতীব আদরে॥
কালের কুটিল চক্রে পড়ি আজি তিনি।
জন শূন্য ঘোর বনে আছেন একাকিনী॥
ভয়েতে,ব্যাকুল প্রাণ হ’য়েছে এমন ৷
এক বিন্দু অশ্রু নাহি হতেছে পতন॥
শুষ্ক কণ্ঠ শুষ্ক মুখ শুষ্ক কলেবর।
কাষ্ঠ পুত্তলিকা সম বিশুষ্ক অন্তর॥
একে রাম বিচ্ছেদেতে নাহি বাহ্যজ্ঞান ৷
সন্ন্যাসী দেখিয়া পুনঃ উড়িল পরাণ॥
জীর্ণ বস্ত্রখানি দিয়া অঙ্গ আচ্ছাদিয়া।
কুটীরের কোণে গিয়া ব’ন লুকাইয়া॥
মনে মনে কত চিন্তা উদিল তখন।
প্রকাশিতে সাধ্য নাহি অন্যের কখন॥
এরূপ বিপদাপন্না অন্য নারী হ’লে।
কোন কালে প্রাণ পাখী যে’ত তার চলে॥
লক্ষ্মী অংশে আবির্ভূতা হয়েছেন সীতা।
তজ্জন্য বিপদর্ণবে আছেন জীবিতা॥
ছদ্মবেশী রাবণ সন্ন্যাসী বারম্বার।
ভিক্ষাং দেহি বলি দ্বারে করিছে চীৎকার॥
অন্যোপায় নাহি সীতা ভাবে মনে মনে।
হইল কহিতে কথা সন্ন্যাসীর সনে॥
নতুবা কদাচ আর নিবৃত্ত না হবে।
বরং আক্রমিয়ে বল বিপদ ঘটাবে॥
দুর্ব্বলা রমণীগণ কোন সাধ্য নাই।
সময় বুঝিয়া তাই এলেন গোঁসাই॥
এতদিন করিতেছি বাস এই বনে।
একটি সন্ন্যাসী কভু হেরি নাই নয়নে॥