অন্য বেশে রাজি আছি, কত যে কার্য্য সেধেছি,
বহুরূপ করিয়ে ধারণ॥
স্থির প্রতিজ্ঞা আমার, না করি কার্য্য উদ্ধার,
কদাচ না যবি লঙ্কা ধামে।
সাধ্যমত সাধি আাবার, করিব বল প্রচার,
না করিব ত্রুটী কোন ক্রমে॥
ইত্যাদি চিন্তিয়া মনে, পুনঃ সুমিষ্ট বচনে,
দশানন সীতা প্রতি কয়।
অয়ি ভদ্রে! কি কারণে, প্রতার ক্ষুধিত জনে,
ধর্ম্মেতে কি নাহি তব ভয়?
গৃহে না থাকিলে পতি, আইসে যদি অতিথি,
পত্নী তার উপেক্ষা না করে।
যে হয় তার শকতি, অভ্যাগতে করি প্রীতি,
বিদায় করয়ে সমাদরে॥
ইহা কি নাহি শুনিলে, অতিথি বিমুখ হ’লে
কি দুর্দ্দশা হয় সংঘটন।
পতিপত্নী উভয়েতে, দহিয়ে পাপ বহ্ণিতে,
নিরয়েতে করয়ে গমন॥
তুমি অতি বুদ্ধিমতী,অটল পতি ভকতি,
আছে হেন পাইনু বুঝিতে।
ইচ্ছা করি অধোগতি, কদাচ ক’রনা সতি,
ধর্ম্ম হ’তে কি আছে জগতে?
ধর্ম্মভয় করি চিতে, আইলে পতি সহিতে,
বন কষ্ট তুচ্ছ করি মনে।
তবে কেন অভ্যাগতে, বিলম্বিছ অন্ন দিতে,
ক্ষুধাতে বাঁচি না আর প্রাণে॥
এইরূপে লঙ্কেশ্বর, স্বার্থ সাধিতে বিস্তর,
মিথ্যা কথা কহিতে লাগিল। .