হইতেছে শুনি ভয়, যদি ইহা সত্য হয়,
তবে ত দূষিবেন্ রঘুমণি॥
ধর্ম্মে তাঁর দৃঢ়মতি, তজ্জন্য এত দুর্গতি,
নিরন্তর করিছেন সহ্য।
নতুবা কৈকেয়ী প্রতি,অসন্তুষ্ট এক রতি,
না হ’য়ে কি ত্যজিতেন্ রাজ্য?
ধর্ম্মচ্যুত যেই জন, তার মুখ দরশন,
নাথ নাহি করেন যখন।
হয় হবে বিড়ম্বন, অতিথি বিমুখ কখন,
করিব না করিলাম পণ॥
ভাগ্য দোষে যা ঘটিবে, কদাচ নাহি খণ্ডিবে,
অবশ্যই হলে সংঘটন।
মিছে কেন ভেবে ভেবে, মরি আর আমি তবে,
হ’ক্ যাহা ললাট লিখন॥
ইহা মনে বিচারিয়ে, যোগীবরে সম্বোধিয়ে
কহিলেন সুমধুর স্বরে।
আপনারে কি যে দিয়ে, তুষিব এ দুঃসময়ে,
এতক্ষণ ভাবিনু অন্তরে॥
বিধি আজি বাম মোরে, নতুবা অন্নের তরে,
এতই কি বলিতে হইত?
রয়েছি ভগ্ন কুটীরে, অঙ্গাচ্ছাদি আছি চিরে,
কি রূপেতে হই বহির্গত॥
হারায়েছি রাজ্যধন, সতীত্ব লজ্জা-রতন,
রাখিয়াছি মাত্র যত্ন ক’রে।
থাকিতে দেহে জীবন, করিব না বিসর্জ্জন,
আসুন প্রভু কুটীরের দ্বারে॥
ফল মূল ভিন্ন আর, নাহিক কিছু আমার
অতিথির ভোজনের যোগ্য।